একশত তেত্রিশ.
মানুষকে সান্ত্বনা কিভাবে দিতে হয় তা এই বয়সে ওরা এখনো বুঝে উঠতে পারল না। কিন্তু সুমির বাবার চোখের জল ওদের মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলল। মানহা ফিসফিস করে অনিককে বলল, ‘আমরা যেজন্য এসেছি সেটা বল।’
এর মধ্যে বিস্কিট ও চানাচুর এসে গিয়েছিল, আর টিউবওয়েলের টাটকা পানি। ওরা খুব একটা ইতস্তত না করেই চানাচুর বিস্কুট সাবাড় করতে লাগল। মানহা আবার অনিকের কনুইতে খোঁচা দিলো। অনিক ঢোক চিপে বলল, ‘আঙ্কেল, সুমির কোনো ছবি আছে?’
ছবির কথা শুনে সুমির বাবা-মা আকাশ থেকে পড়ল। দু’জনেই মাথা দুদিকে ঝাঁকিয়ে বলল, ‘না, ওর ছবি কই? ওই সময় তো এরকম মোবাইলে ক্যামেরা ছিল না।’
সেতু তামিম মানহা হতাশায় একে অন্যের দিকে তাকাতাকি করতে লাগল। এতোটা পথ এসে ছবি পাওয়া গেল না?’
অনিক জোর দিয়ে বলল, ‘কোনো রকম ছবি নেই? পাসপোর্ট সাইজ? গ্রুপ ছবি? সাদা কালো?’
বাবা-মা দু’জনেই দু’দিকে মাথা নাড়লেন। বাবা জিজ্ঞেস করল, ‘সুমির ছবি দিয়ে কি হবে?
ওরা একে অন্যের দিকে তাকাল। হলোগ্রাফিক ইমেজের কথা কি এরা কেউ কিছু বুঝবে? কি উত্তর দেওয়া য়ায় অনিক বুঝতে পারছিল না। (চলবে)