একশত চল্লিশ.

একটু আগে যেখানে নিজেদের ছবি দেখে চাচা-চাচী অভিভূত হয়ে পড়েছিল সেখানে হঠাৎ করে সুুমিকে দেখে ভীত হয়ে পড়ল, কারণ চাচা-চাচী মনে করেছে হলোগ্রাফিকে শুধুমাত্র জীবন্ত মানুষকেই ওরকম ছায়ার রূপ দেয়া যায়, সেখানে মৃত সুমি চলে আসায় চাচা-চাচীর খবর হয়ে গেল। অনিক আর সেই ভুল ভাঙাতে চাইল না, বরং সে এটাই চাইছিল। ভয়ে চাচা-চাচীর মুখ শুকিয়ে গেল।
সবচেয়ে খবর হলো শিহাব ভাইয়ার। বরের আসনে কনের পাশে বসে বসে সেলুলয়েডের পর্দায় দেখার মতো নিজেদের বিয়ের ত্রিমাত্রিক হলোগ্রাফিক ইমেজ দেখে বিজ্ঞান কত দূর এগিয়েছে সেটাই ভাবছিল, কিন্তু সেই বিজ্ঞানের মধ্যে হঠাৎ করে সুমির ভূত ঢুকে যাওয়ায় তার ভিমড়ি খাওয়ার জোগাড়।
সুমির ব্যাপারটা নিয়ে সব সময় একটা অপরাধবোধ তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে, বিদেশ বিভূঁয়েও তার পিছুছাড়া করেনি। আর সেই মৃত সুমিকে এরকমভাবে দেখে শিহাব বরের আসন থেকে উঠে দাঁড়াতে গেল। কনে অবাক চোখে বরের দিকে তাকিয়ে হাত ধরে টেনে বসাতে চাইল। কিন্তু শিহাব ততক্ষণে বরের আসন ছেড়ে সামনের দিকে এগিয়ে এসেছে।