বলছি মিনাহাসা জাতির কথা। এরা বাস করে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাউইসি প্রদেশে । এক সময় উত্তর সুলাউইসি উত্তর সেলেবিস নামেও পরিচিত ছিল। এ নাম দিয়েছিল পর্তুগিজরা।
প্রদেশের যে এলাকায় মিনাহাসা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাস তার নাম মিনাহাসা রায়া। এর বিস্তৃতি বিতুং নগর, ম্যানাদো নগরী ও মিনাহাসা রিজেন্সিজুড়ে। উত্তর সুলাউইসির সাতটি প্রশাসনিক অঞ্চলের এই তিনটি রয়েছে মিনাহাসা রায়াতে।
মিনাহাসা জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এদের বেশির ভাগ খ্রিষ্ট ধর্ম পালন করে। মিনাহাসারা কথা বলে মিনাহাসীয় (মিনাহাসান) ও ম্যানাদো মালয় ভাষায়। বর্তমানে যে এলাকায় মিনাহাসা জনগোষ্ঠী বসবাস করছে তা আসলে ছিল মালয়ভাষী ভূখ-। ১৬ শতকে এখানে পর্তুগিজরা উপনিবেশ স্থাপন করে। পরে আসে ডাচরা। পর্তুগিজ ও ডাচ প্রভাবে এখানে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এমনকি এখানকার মানুষ খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষা নিতে থাকে। পর্তুগিজ বিশ্বাস আর ডাচ সংস্কৃতি মিনাহাসা জনজীবনে দারুণ প্রভাব ফেলে। অনেক ডাচ শব্দ স্থানীয় মালয় ভাষায় প্রবেশ করে। ভাষার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসে। এভাবে কয়েকটি মিনাহাসানীয় উপভাষা সৃষ্টি হয়।
মিনাহাসারা বেশ মিশুক প্রকৃতির এবং অতিথিবৎসল।
এরা নাচ-গানে বেশ পারদর্শী। এদের ক্যাবাসারান যুদ্ধনৃত্য বিখ্যাত। এ নৃত্যে এদের প্রাচীন যুদ্ধ-সমাজের ইতিবৃত্ত প্রতিফলিত হয়। নাচের সময় এরা লাল রঙের পোশাক পরে। এ রঙ ছিল এদের প্রাচীন সমাজের প্রধান শিকারির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মিনাহাসারা ধান, সবজি, শস্য ও চীনাবাদাম চাষ করে। এরা চালের তৈরি বিভিন্ন খাবার, মাছ, গোশত ইত্যাদি খায়; ঝোল (স্যুপ) বেশ পছন্দ করে।
ইউরোপীয়, বিশেষ করে ডাচ ঘরানার পোশাকের প্রতি এদের ঝোঁক আছে। মিনাহাসারা বিশ্বাস করে তাদের উদ্ভব হয়েছে তোয়ার ও লুমিমুইত জাতি থেকে। ইউরোপীয়দের আগমনের সময় মিনাহাসারা ছিল তারনেত সালতানাতের প্রভাবিত এলাকার অধিবাসী। ১৬ শতকে পর্তুগিজ ও স্প্যানিশরা আসে উত্তর সুলাউইসি এলাকায়। পরে আসে ডাচরা। ১৮০১-১৮১৬ সাল পর্যন্ত মিনাহাসা এলাকা ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৮১৭ সালে এখানে পুনরায় ডাচ শাসন কায়েম হয়। ২০ শতকের চল্লিশের দশকে ইন্দোনেশিয়া স্বাধীন হলে মিনাহাসাদের আবাস ভূমি উত্তর সুলাউইসি দেশটির অংশে পরিণত হয়।
বলছি মিনাহাসা জাতির কথা। এরা বাস করে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাউইসি প্রদেশে । এক সময় উত্তর সুলাউইসি উত্তর সেলেবিস নামেও পরিচিত ছিল। এ নাম দিয়েছিল পর্তুগিজরা।প্রদেশের...
