এবারের বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক ম্যান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তূগালেরএই ফরোয়ার্ডের তিন গোলের উপর ভর করে স্পেনের সাথে ৩-৩ গোলে ড্র পর্তূগালের। দ্বিতীয় ম্যাচে তার করা একমাত্র গোলেই মরক্কোর বিপক্ষে জয়। দুই ম্যাচে চার গোল করেরিয়াল মাদ্রিদের এই ফুটবলার এখন পর্যন্ত এই আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার সামনে আপাতত এখন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড ভাঙ্গার লক্ষ্য। ১৯৫৮’র বিশ্বকাপে১৩ গোল করেন ফন্টেইন। আগের দুই বিশ্বকাপ মিলে তিন গোল ছিল রোলানদোর। অথচ এবার এক আসরেই দুই ম্যাচে চার গোল দিয়েছেন। ফলে এখন তার পুঁজিতে ৭চি বিশ্বকাপের গোল। রোনালদোর মতো ফুটবলারের জন্য গোল কোনো বিষয় নয়। এ পর্যন্ত ক্লাব দলের হয়েকরেছেন ৩৯৮ গোল । আর সিনিয়র ও জুনিয়র মিলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১০৩ গোল। অথচ এবারের তার বিশ্বকাপের গোলের নেপথ্যে নাকি রয়েছে ভাগ্যের সহায়তা। এই ভাগ্যের পেছনে তার মুখের ছোট ছোট দাঁড়ি। এমন কথাই মরক্কোর সাথে ম্যাচের পর বললেন পর্তূগালের এই অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে তার বক্তব্য,‘এই দাঁড়িই আমার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। এটা রাখার পরদেখলাম আমি গোল পাচ্ছি। তাই বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাটবো না তা।’ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে তিন গোল রোনালদোর। সবাই ধরে নিয়েছিলেন মরক্কোর বিপক্ষে গোলের বন্যা বইয়ে দেবেন। যা তার গোল সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেবে। অথচ মাত্র এক গোলেরই দেখা পেলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বললেন,‘ মরক্কোতো ভালো খেলেছে। তাদের বিপক্ষে জয় পেয়েছি বা তিন পয়েন্টের দেখা মিলেছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমরা নক আউট পর্বের ট্র্যাকে আছি। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে আর এক ধাপ বাকি।’ পর্তূগালের পরের ম্যাচ ইরানের বিপক্ষে। তারাও অপেক্ষাকৃত দুর্বল। সুতরাং রোনালদোর সুযোগ আছে সেই খেলায় গোল করে জাস্ট ফন্টেইনকে ধরার পথে আরো এগিয়ে যাওয়া। অবশ্য এই ফুটবলার ভাবছেন না নিজের রেকর্ড নিয়ে। জানান , রেকর্ডআমার মাথায় নেই। দল জিতছে ও জিতবে এটাই আমার মূল লক্ষ্য। দল গ্রুপে ভালো পজিশনে থাকুক, এটাই চাই। পরের রাউন্ডে কোয়ালিফাই করাই আমাদের প্রধান মিশন এটি।

ম্যাচ শেষে একটি টিভি চ্যানেলকে তিনি দিচ্ছিলেন এই সাক্ষাৎকার । তবে তিনিও মিক্সড জোনে মোহাম্মাদ সালাহর মতো রোনালদোও হতাশ করলেন সব মিডিয়াকর্মীকে। আরএই এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আশ্রয় নিলেন এক প্রকার প্রতারণার। ড্রেসিং রুম থেকে বের হয়েই হাতে মোবাইল নিয়ে তা ডান কানে ধরলেন। মানে সবাইকে বুঝাতে চাইলেন তিনি ফোনে কথাবলায় ব্যস্ত। সুতরাং ক্রীড়া সাংবাদিকদের সাথে কথা বলান সময় নেই তার। কিন্তু তাকে কেউ কথা বলতে দেখেনি। কিংবা অন্য কোনো শব্দ করতে শুনেনি। শুধুই কানে মোবাইল চালাকি। এ নিয়ে উপস্থিত সব মিডিয়াকর্মীর মধ্যে হাসাহাসি শুরু হয়ে যায়।

বিশ্বকাপে রোনালদোর আগের তিন গোল ইরান, ঘানা ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। ২০০৬ বিশ্বকাপে গোল ইরানের বিপক্ষে। ২০১০সালে বল পাঠান উত্তর কোরিয়ার জালে। আর ২০১৪ সালে গোল ঘানার বিপক্ষে।

আরো পড়ুন :
সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোল স্কোরারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রোনালদো
চলমান রাশিয়া বিশ্বকাপে দলের প্রথম ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ তিন গোল করেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বুধবার ‘বি’ গ্রুপে দলের দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কের বিপক্ষে একটি গোল করেন রোনালদো। তার একমাত্র গোলে জয়ও পেয়েছে পর্তুগাল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দু’ম্যাচে মোট ৪টি গোল করলেন রোনালদো। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডের তালিকায় হাঙ্গেরির ফেরেন্সে পুসকাসকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এলেন রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে হ্যাট্টিক করে পুসকাসকে স্পর্শ করেছিলেন রোনালদো। মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে পুসকাসকে ছাড়িয়ে যান তিনি।

১৫২ ম্যাচে ৮৫ গোল হলো রোনালদোর। হাঙ্গেরির হয়ে ৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল করেছেন পুসকাস। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন ইরানের আলী দায়ি। ১৪৯ ম্যাচে ১০৯ গোল করেন দায়ি। এছাড়া প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বহু রেকর্ডের মালিক হয়েছেন রোনালদো।

পর্তুগালের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০০৬ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে এক গোল করেন রোনালদো। পরের বিশ্বকাপেও ১টি গোল ছিলো তার। ২০১৪ বিশ্বকাপের এক গোলের বেশি করতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়। আর এবার ২১তম বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে তিন গোল করে রেকর্ড করেন রোনালদো। টানা চার বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড আরো আছে- জার্মানির উই সিলার, মিরোস্লাভ ক্লোসা ও ব্রাজিলের পেলের। এছাড়াও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডও গড়েছিলেন রোনালদো। ৩৩ বছর ১৩১ দিনে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল রব রেনসেনব্রিঙ্কের । ৩০ বছর ৩৩৫ দিনে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে রেকর্ড গড়েন রব রেনসেনব্রিঙ্কে ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা শীর্ষ পাঁচ খেলোয়াড় : খেলোয়াড় ম্যাচ গোলআলী দায়ি (ইরান) ১৪৯ ১০৯ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) ১৫২ ৮৫ফেরেন্স পুসকাস (হাঙ্গেরি) ৮৯ ৮৪ কুনিশিগে কামামোতো (জাপান) ৮৪ ৮০ গডফ্রে চিতালু(জাম্বিয়া) ১১১ ৭৯।