আগের ম্যাচে নেপালে কাছে হারের পর কাল ভুটানের বিপক্ষে একাদশে চারটি পরিবর্তন। প্রথম মাচে ভুটানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে হ্যাটট্রিক করা সুরভী আকন্দ প্রীতিকে নেপালের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নামানো হয়। তবে ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে উঠে আসা এই স্ট্রাইকারকে সোমবার (৯ নভেম্বর) একাদশে সুযোগ দেন কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। এতে ম্যাচ টাইমিং আরো বেশি পান প্রীতি। যার ফলে আদায় করলেন ডাবল হ্যাটট্রিক। আর বাংলাদেশের ভুটান জয় ৯-০তে।
প্রথম ম্যাচে প্রীতি ৩ গোলের উপর ভর করে লাল সবুজরা ৮ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে। এই জয়ের ফলে অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সাফে শিরোপা জিততে হলে ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের ২-০ গোলে জয় দরকার নেপালের বিপক্ষে। অবশ্য বুধবার নেপাল যদি ভুটানকে ৯-০ গোলের কমে হারায় তাহলে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১-০তে জয় হলেই হবে।
দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে সব খেলোয়াড়ই গোল করার চেষ্টা চালিয়েছিল। টিমওয়ার্ক ছিল না। সে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই সোমবার কমলাপুর স্টেডিয়ামে খেলতে নামেন রুমা আক্তাররা। যদিও গোলের প্রথম সুযোগ ভুটানই পেয়েছিল। ৮ মিনিটে প্রিয়া গালের সেই শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে গেলে রক্ষা। অবশ্য এরপর থেকেই সুরভী আকন্দ প্রীতিময় বাংলাদেশের ম্যাচ।
১৫ মিনিটে প্রীতির বাম পায়ের শট দিয়ে গোলউৎসব শুরু। মাঝমাঠ থেকে আসা হেড বিপক্ষ গোলরক্ষক ধরতে না পারলে প্রীতি সে বল জালে পাঠান। ২২ মিনিটে সুলতানার আক্তারের পাসে বক্সের ঠিক ভেতর থেকে প্রীতির ডান পায়ের দারুণ প্লেসিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ।
২০১৯ সালের ইউনিসেফ টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা এই ফুটবলারের হ্যাটট্রিক পূরণ ৩০ মিনিটে। ডান দিক থেকে পূজা দাশের ক্রসে তার টোকা ভুটানের জালে।
এ ম্যাচে দারুণ খেলেছেন সুলতানা ও পূজা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে প্রীতির চার নাম্বার গোল নুসরাত জাহান মিতুর। ৫৬ মিনিটে পঞ্চম গোল পাওয়ার পর ৮৭ মিনিটে ভুটানী গোলরক্ষকের ভুলে ডান পায়ের শটে ডাবল হ্যাটট্রিক পূরণ প্রীতির। প্রীতি দাবি করেছেন ৮০ মিনিটে হওয়া গোলটি তারই। যদিও রেফারি উষা কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলা থেকে করা সেই গোল দিয়েছেন থুইনু মারমাকে। এর আগে ৬৬ মিনিটে দারুণ এক গোল করেন আয়েশা আক্তার। ৫৫ মিনিটে নুসরাত জাহার মিতুর দূরপাল্লার শট জালে। ৪০ মিনিটে প্রীতির শট পোস্টে প্রতিহত হয়।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ ছোটন বলেন, ‘গত ম্যাচের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ম্যাচে পরিকল্পনা মেনে দুর্দান্ত খেলেছে মেয়েরা।’
তিন ম্যাচে ৯ গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রীতি। একেবারেই পরিপূর্ণ স্ট্রাইকার মনে হয়েছে তাকে। তার সম্পর্কে কোচ বলেন, ‘প্রীতি প্রকৃতি-প্রদত্ত প্রতিভা। খাদ্যাভাসের কারণে সে ক্যাম্প থেকে বাদই পড়তে যাচ্ছিল। প্রচুর খাবার নষ্ট করতো সে। এখন সে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। স্কিলের জন্যই আমরা তাকে উইংগার থেকে স্ট্রাইকার বানিয়েছি।’
প্রীতির বক্তব্য, ‘আমার লক্ষ্যই ছিল এই ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করবো। তবে নেপালের বিপক্ষে গোল করতে না পেরে খারাপই লেগেছিল।’



