কাতারের মরুর বুকে বাহারি সব স্টেডিয়াম। চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ দিয়ে সাজানো এই ভেন্যুগুলো। এই স্টেডিয়ামের ভেনু দর্শন ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করলেও খেলোয়াড়দের একের পর ইনজুরি নষ্ট করেছে এবারের কাতার বিশ্বকাপের সৌন্দর্যকে।

বিশ্বকাপের আগে ফুটবলারদের চোটে ছিটকে পড়া নতুন কিছু নয়, তবে কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগে অতীতে এতো ব্যাপকহারে ফুটবল তারকাদের বাদ পড়ার ঘটনা কমই। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে রোববার থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের আগে একের পর এক বিভিন্ন দলকে শুনতে হচ্ছে দু:সংবাদ। সর্বশেষ সংযোজন করিম বেনজেমা। চোটের কাছে হার মেনে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আর খেলা হলো না তার।

এবার বেনজেমাদের বহরটা অনেক লম্বা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার নিকো গনজালেস ও জ্যাকুলিন কোররেয়া বাদ পড়েন ইনজুরিতে। একই কারণে বাদ জিওভান্নি লো সেলসোকে। সেনেগালের সাদিও মানের বাদ পড়াটা আফ্রিকান নেশনস কাপের সেরা সেনেগালের জন্য বিশাল ধাক্কা। বেনজেমার আগে ইনজুরির জন্য ফরাসি দলে জায়গা হারান এনগোলো কন্তে ও পল পগবা।

পর্তুগাল হারিয়েছে তাদের স্ট্রাইকার দিয়েগো জোতাকে। ঘানার জোজো ওয়াল্লাকোট, ব্রাজিলের লিভারপুলের ডিফেন্ডার আর্তুর মেলো, মরক্কোর আমিনে হারিত, জার্মানির মার্কুস রেউস, জাপানের উতা নাকায়ামারা এবারের বিশ্বকাপে দর্শক হিসেবেই থাকবেন। কারণ ইনজুরি।

এই সব ইনজুরির সাথে কাতার বিশ্বকাপের কোনো সম্পর্ক নেই। সবই আঘাতটা পেয়েছেন যার যার ক্লাবের হয়ে। সে জেরই টানতে হচ্ছে এখন সংশ্লিষ্টদের দেশকে। যা কমিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের আকর্ষণ। সমর্থকরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ এই আসরে তাদের প্রিয় তারকার খেলা দেখতে, তেমনি দেশও পাবে না এই তারকাদের মহামূল্যবান সার্ভিস। ক্লাব লিগের পর বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে হয়েছে বাকি সর্বনাশটা।

এখানেই শেষ নয়। আগামী এক মাসজুড়ে চলবে বিশ্বকাপ। একেকটি দলকে ৪-৫ দিনের মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলতে হবে। যেমন আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচ ২২ ও ২৭ নভেম্বর। ব্রাজিলের প্রথম দুই খেলা ২৫ ও ২৮ তারিখে। লিগের ফুটবলাররা ম্যাচ খেলেন সপ্তাহে একদিন। টুর্নামেন্টে আরো বেশি। তাই এই অল্প সময়ের ব্যবধানে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে গিয়ে ইনজুরির শংকায় থাকবেন ফুটবলরারা।

কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি। সোমবার আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ সৌদি আরবের বিপক্ষে। তাকে পুরোপুরি ফিট রাখতে দল কাতার পৌঁছার পর প্রথম দুই দিন দলের সাথে অনুশীলন করানো হয়নি। প্রথম দিন জিমে সময় দিয়েছেন। পরের দিন মাঠে এলেও অন্যদের চেয়ে আলাদা থেকে ট্রেনিং করেছেন।

অফ ফর্মে রোনালদো। এখন মেসি যদি কোনা কারণে বাদ পড়েন, তাহলে মরুভূমির মরিচিকাই হয়ে যাবে এই বিশ্বকাপের সৌন্দর্য। যেমন আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া এবং স্পেনের নাগরিক আলফ্রেডো ডি স্টিফানোর (যাকে পেলে-ম্যারাডোনার পর সেরা ফুটবলার বলা হয়) বিশ্বকাপে খেলা হয়নি ইনজুরির জন্য।