বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খেতাব। সে হিসেবে এবারো ফেবারিট ফ্রান্স। কিন্তু একের পর দলের খেলোয়াড়দের ইনজুরি বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যামসকে। প্রথমে হারায় এনগুলু কন্তেকে। এরপর ছিটকে যান পল পগবা। আনফিট হয়ে বাদ পড়াদের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন করিম বেনজেমা। তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়ে এই দলের পক্ষে কি সম্ভব বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা?
কোচ দিদিয়ের দেশ্যামস অবশ্য এরপরও আত্মবিশ্বাসী তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপে হাত ছোঁয়ানোর ব্যাপারে। কাল কাতার বিশ্বকাপের মেইন মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তাই তার জোরালো কণ্ঠ। ‘আমরা তিন ফুটবলার হারিয়েছি। এর মধ্যে আছেন করিম বেনজেমা এবং পল পগবাও। কোনো সন্দেহ নেই তারা যে ভালো খেলোয়াড়। কিন্তু অবশিষ্ট যারা আছে তাদের উপরও আস্থা রয়েছে। এই দল নিয়েও চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব।’
এই মিশনে আজ তাদের প্রথম ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার সাথে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আল জানুব স্টেডিয়ামে হবে এই ‘ডি’ গ্রুপের এই ম্যাচ।
ইনফর্ম স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। এবারের ব্যালন ডি অর জয়ী। গোলের মধ্যেই ছিলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। তার ফরাসীদের আক্রমণভাগের প্রাণ ভোমরা ছিলেন। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে মাসখানেক আগে পাওয়া ইনজুরের জেরই তাকে ছিঠকে ফেলেছে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলা থেকে। এই মুসলিম ফুটবলার একই সাথে নির্ভরযোগ্য পেনাল্টি নেয়া খেলোয়াড়ও। তাকে ঘিরে সেই স্বীকৃতিও মিললো কোচের মুখে। সাথে উল্লেখ করেন, বেনজেমা না থাকলেও দলে বিকল্প পেনাল্টি টেকার আছে।
ফিফা র্যাংকিংয়ে পাঁচ-এ ফ্রান্স। এশিয়ার দেশ অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান অনেক দূরে, ৩৮-এ। এরপরও সকারুজদের অবহেলার চোখে দেখছেন না দেশ্যামস। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু ফুটবলার ইউরোপে খেলে। তাই তাদের খাটো করে দেখার কোনো সুযোগই নেই।’ দলের অধিনায়ক গোলরক্ষক হুগো লরিচ বর্তমান চ্যাম্পিয়নের মর্যাদাটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন।
জানান, সবাই আমাদের ফেবারিট বলছে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জও। এরপরও আমরা এগুতে চাই ম্যাচ বাই ম্যাচ।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্বে বিদায়ের ঘটনা আছে। ২০০২ সালে এভাবেই গ্রুপ থেকে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে। ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন জার্মানী ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্ব উৎরাতে পারেনি। এবারো কি ফ্রান্স সে পথে হাঁটবে। কোচের উত্তর, এটা নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে ভাবছি না। আমরা আমাদের বর্তমান অবস্থা নিয়েই ভাবছি। আশা করি গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ার ঘটনা ঘটবে না।
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশাবাদী হওয়ার মতো নয়। সর্বশেষ ছয় ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় তাদের। এরমধ্যে ড্র দুটিতে। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে। তাদের শেষ দুই ম্যাচ ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এই পরিসংখ্যান কি আজ অস্ট্রেলিয়াকে মাঠে বাড়তি সুবিধা দেবে?



