আর্জেন্টিনার হারে দারুণ খুশি ব্রাজিলের সাংবাদিকরাও। ল্যাতিন এই দু’দেশ যে চিরপ্রতিদ্বদ্বী। মেসিরা গ্রুপ পর্বে বিদায় নিলে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের একটি বাধা দূর হবে। তবে এখনো বাকি ব্রাজিলের খেলা।

নেইমারদেরও যদি আলবিসেলেস্তেদের মতো হয় তাহলে ভীষণ আনন্দিত হবে ম্যারাডোনার দেশের সমর্থকরাও। অবশ্য ব্রাজিলের কোচ আদেনোখ বাখী তিতে ( ব্রাজিলের ভাষায় তিতে হলো চিচে) দলকে হারের মুখে ফেলতে চান না। তাই কাল সার্বিয়ার বিপক্ষে আক্রমনাত্মক কৌশল।

কৌলশের কারণে এই প্রথম দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের বদলে এক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে রাখা হবে একাদশে। ফরমেশন হবে ৪-১-২-৩। মানে চার ডিফেন্ডারের সামনে এক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। এরপর দুই মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ড। লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপের এই ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় শুরু হবে।

গত রাশিয়া বিশ্বকাপেও সার্বিয়াকে গ্রুপে পেয়েছিল নেইমাররা। রাশিয়ার মাঠে ২-০তে জয় পায় পেলের দেশ। কালও জিততে চায় ব্রাজিল। এ জন্যই আরো আক্রমণাত্মক খেলবে ল্যাতিন জোন থেকে শীর্ষ দল হিসেবে বাছাই পর্ব উতরানো দলটি। তাই আরেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফ্রেডের আশ্রয় হবে সাইড বেঞ্চে।

সার্বদের মোকাবেলায় একাদশও চূড়ান্ত করেছেন কোচ তিতে। পোস্টের নীচে লিভারপুলের এলিসন বাকের। চার ডিফেন্ডার হলেন জুভেন্টাসের ড্যানিলো, চেলসির অভিজ্ঞ থিয়াগো সিলভা, পিএসজির মার্কুইনস এবং জুভেন্টাসের অ্যালেক্স সান্দ্রো। তাদের সামনে থাকবেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্যাসিমিরো। প্লে মেকারের ভূমিকায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের নেইমার জুনিয়র। তিনি মাঝমাঠে সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন ওয়েস্ট হ্যামের পাকুয়েতাকে। নাম্বার নাইন পজিশনে টটেনহ্যামের রিচার্লিসন। দুই উইংগারের মধ্যে ডান পাশে খেলবেন বার্সেলোনার রাফিনহা। আর বাম দিকে রিয়াল মাদ্রিদে খেলা ভিনিসিয়স জুনিয়র।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সবার উপরে ব্রাজিল। সাবেক যুগোশ্লাভিয়া বর্তমানে সার্বিয়া। তারা আছে ২১ এ। ব্রাজিল মানেই বিশ্বকাপের রেকর্ড। তাদের মতো কোনো দলই পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ এই আসরে ব্রাজিলই সর্বাধিক ৭৩টি জয়। এজন্য খেলেছে ১১৯টি ম্যাচ। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে এই বড় দেশ প্রতি বিশ্বকাপেই খেলেছে। যা আর কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

তবে গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ১-২ গোলে হারের পরও কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবল (সিবিএফ) কোচ তিতেকে হেড কোচের পদে বহাল রাখে। ২০১৯ সালে তিনি ব্রাজিলকে নবম কোপা আমেরিকা ট্রফি এনে দেন। যদিও গত বছর আর্জেন্টিনার কাছে এই আসরের ফাইনালে হার। এরপরও অবশ্য আর কোনো ম্যাচে হারেনি আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম পাড়ের দেশটি। নেইমাররা সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে ৫-১ গোলে তিউনিসিয়াকে উড়িয়েছে।

যুগোশ্লাভিয়া পর্ব শেষ করে ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলে সার্বিয়া। সেবার তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেও ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৮ সালে দৌড় গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত। তবে ২০২২ সালটা দারুণ যাচ্ছে বলকান অঞ্চলের এই দেশটির। এ বছর তারা আট ম্যাচের ছয়টিতে জিতেছে। হার মাত্র দুটি খেলায়। ইউরো নেশনস লিগে ছয় ম্যাচে চার জয় আর এক ড্রতে গ্রুপ সেরা হয়েছে নরওয়ে, স্লোভেনিয়া এবং সুইডেনকে পেছনে ফেলে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হওয়া। এছাড়া টপকায় আইসল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ এবং আজারবাইজানকে। কাতারের টিকিট কাটতে তারা কোনো ম্যাচই হারেনি। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে তাদের ৫-১ গোলের জয় বাহরাইনের বিপক্ষে।