তুর্কি বংশোদ্ভূত কোচ মুরাদ ইয়াকিন। তার ছোট ভাই হাকান ইয়াকিন ছিলেন সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের ফুটবলার। খেলেছেন ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে। এখন অন্য ভাই বিশ্বকাপের কোচ।
‘আমাদের দেশে প্রচুর অভিবাসী। ফলে তাদের নিয়ে আমরা ফুটবলটা উপভোগ করি।’কাতার বিশ্বকাপে আসা সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ মুরাদ ইয়াকিনের ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্যের সূত্র ধরেই সংবাদ সম্মেলনে আসা অন্য অভিবাসী ফুটবলার জেরদান শাকিরিকে আমার প্রশ্ন, একজন অভিবাসী হিসেবে আপনি কতোটা সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলে ফুটবলটা উপভোগ করেন? এই মুসলামান ফুটবলার প্রশ্নটির যে লম্বা সময় ধরে উত্তর দেবেন ধারণায় ছিল না। প্রায় মিনিট দুয়েক সময় নিয়ে দিলেন এই প্রশ্নের উত্তর। জানান, ‘আমি এখন সুইস (সুইজারল্যান্ডের মানুষ এই নামেই পরিচিত)। মাঠে আমরা এই পরিচয়েই খেলি। সবাই একটা পরিবার আমরা।’
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশী মিডিয়া কর্মীদের প্রশ্ন করার সুযোগই হয় না। যারা বিশ্বকাপে খেলে তাদের সাংবাদিকদেরই প্রাধান্য। কাল ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সুইজারল্যান্ডের এ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার সুযোগটা পাওয়া শ্রীলঙ্কান মিডিয়া অফিসারের কল্যােণে। যিনি আগ থেকেই পরিচিত।
সার্বিয়া থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়া কসোভোতে জন্ম শাকিরির। এই সাবেক লিভারপুর, বায়ার্ন মিউনিখে ফরোয়ার্ড এখন খেলছেন যুক্তরাস্ট্রের লিগের দল শিকাগো ফায়ার এফসিতে। আমি শাকিরিকে কি প্রশ্ন করলাম তা জানান জন্য সংবাদ সম্মেলন শেষেই ছুটে আসেন সার্বিয়ার তরুন সাংবাদিক মিলোতিন ভুয়েটিজ। বুঝাই গেল কসোভো ইস্যুতে কতোটা সিরিয়াস সার্বিয়ান ‘খুনি’রা। পরে তাকে বুঝানো হল বিষয়টি।
শাকিরি বেশ বন্ধু সুলভ। সংবাদ সম্মেলন শেষে তাকে সালাম দেয়ার পর স্পস্ট ভাষায় দিলেন উত্তর। কিছুক্ষন সময়ও দিলেন ছবি তোলার জন্য। বাংলাদেশী সাংবাদিক বলার পরপরই এই স্ট্রাইকারের উত্তর, 'আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানি। এই দেশের মানুষকেও চিনি। তবে কখনই বাংলাদেশে যাওয়া হয়নি।’ আরো সময় দিতে চেয়েছিলেন শাকিরি। কিন্তু প্রেস কনফারেন্স রুমে থাকা ফিফার দায়িত্বরতরা আমাকে সরিয়ে দেয়।
অভিবাসী প্রসঙ্গ নিয়ে শাকিরি আরো জানান, সুইজারল্যান্ডে প্রচুর অভিবাসী। আমিও একজন। তবে জাতীয় দলে আমরা সবাই এক জাতি। একটি পরিবার। খেলি শতভাগ দিয়ে দেশের জন্য। আমাদের জন্য তাই প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ন। বেশ উপভোগ করি খেলা। তা একটি পরিবার হিসেবে। দলের সাফল্যের জন্য মুখিয়ে থাকি। জিতলে সবাই মিলে ইনজয় করি।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বললেন, 'আমরা আগের ম্যাচে ক্যামেরুনকে হারিয়েছি। এখন আমাদের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়না। রাশিয়া বিশ্বকাপে তাদের সাথে ভালো খেলেই ড্র করেছি ১-১ এ। এবারো তাদের বিপক্ষে ভালো খেলে রেজাল্ট পেতে চাই।’ যোগ করেন, 'ইনজুরির জন্য নেইমার নেই ব্রাজিল দলে। তার মতো গ্রেট ফুটবলারের বিপক্ষে এবার খেলা হচ্ছে না আমাদের। তবে নেইমার ছাড়াও ভালো ফুটবলার আছে ব্রাজিলে। তাদের দলে তো কোয়ালিটি ফুটবলারের অভাব নেই।’ এরপরই তার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ, ব্রাজিলকে হারানোর মতো শক্তি আমাদের আছে। আমরা গত বিশ্বকাপের দলের চেয়েও অভিজ্ঞ। দলও আরো পরিণত।
তার মতে, আমাদের ‘জি’ গ্রুপে যে কোনো কিছুই হতে পারে।



