তাহলে কি লিওনেল মেসি তার শেষ বিশ্বকাপটা খেলে ফেলছেন। নাকি রবার্ত লেভানদভস্কির বিদায় বিশ্বকাপ থেকে। বুধবার রাতে কাতার বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের এই ম্যাচের শুরু থেকেই স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ উপস্থিত দর্শকসহ সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে এ নিয়ে ছিল প্রবল শংকা। ম্যাচে আর্জেন্টিনা হারলেই বাদ। সেইসাথে হারে বিশ্বকাপ শেষ করতে হবে মেসিকে।
শিরোপা জয়ের বদলে প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়া। আবার গোল মেশিন খ্যাত লেভানদভস্কির দল পয়েন্ট না পেলে এই পোলিশ তারকারও শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এই দুই গ্রেট ফুটবলারের কাউকেই হতাশ হতে হয়নি। খেলা শেষে যখন আর্জেন্টিনা শিবিরে জয় এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার উল্লাস, তখন ০-২ গোলে হার সত্ত্বেও পোল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রা খুশিতে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরছেন। কারণ তাদেরও শেষ ১৬-তে খেলার ছাড়পত্র মিলেছে। কারণ, মেক্সিকোর ২-১ গোলে জয় সৌদি আরবের বিপেক্ষে। এতে গোল পার্থক্যে পোলিশরা ৩৮ বছর পর চলে যায় বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে।
আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে পোল্যান্ডকে হারালে পাল্টে যেত চিত্র। অঘটনের বিশ্বকাপ কাতার ২০২২। তবে পরশু রাত পর্যন্ত কোনো গ্রেট ফুটবলারকে দলের হাতাশা বহন করে ছিটকে পড়তে হয়নি। এতে আসলে গ্রেটেস্ট শোন অন আর্থের আকর্ষণই টিকে থাকলো। মানুষ এখন নক আউট পর্বেও দেখতে পারবে মেসি, লেভানদভস্কিদের নৈপূন্য। সাথে কিলিয়ান এমবাপ্পে, নেইমার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদেরও।
যদি আর্জেন্টিনা হেরে যেত পোল্যান্ডের কাছে, মানা নত করে মাঠ ছাড়তে হতো মেসিদের, তাহলে বিশ্বকাপের আকর্ষণ বহুলাংশেই কমে যেত। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে দলটির যে শত শত কোটি ফুটবলপ্রেমী তাদেরও আর আগ্রহ থাকতো না এই বিশ্বকাপ ঘিরে। সেই হতাশা কাউতেই ভর করেনি।
এমনিতেই এবারের বিশ্বকাপের আগে ইনজুরি সাদিও মানে, করিম বেনজেমা, পল পগবা, দিয়েগো জোতার মতো তারকা ফুটবলারকে ছিটকে দিয়েছে। এখন মেসি বা লেভানদভিস্কর কাউকে যদি দ্বিতীয় রাউন্ডে পাওয়া না যেত তাহলে আরো কমতো দর্শক প্রিয়তা।
বুধবার ম্যাচে অবশ্য কোনো গোলই পাননি মেসি বা লেভানদভস্কি। মেসি মিস করেছেন পেনাল্টি। তার শট রুখে দেন পোলিশ কিপার। এরপরও অবশ্য আর্জেন্টিনার আক্রমণ ভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। তার কয়েকটি শট বাধাপ্রাপ্ত হয় বিপক্ষ গোলরক্ষকে। তবে অনুজ্জ্বল ছিলেন লেভানদভস্কি। কিছুই করতে পারেননি গত ম্যাচে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করা এই বার্সেলোনার স্ট্রাইকার সৌদি ডিফেন্সের মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে গোল করেন। সেটিই তার এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের একমাত্র গোল। তার সামনে এখন দ্বিতীয় রাউন্ডে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করার সুযোগ।
মেসি সৌদি আরবের বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করার পর মেক্সিকোর বিপক্ষেও গোল করেছেন। তা দারুণ এক শটে। এখন তার সামনে আরো সুযোগ গোল করার। তবে মেসি বা লেভানদভস্কিদের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়ার শংকা আছে। সেটা হলেও কেউ এটা বলতে পারবে না বিদায়তো হয়েছে প্রথম পর্বেই। অবশ্য এখন তারা শিরোপা জয়ের স্বপ্নও ফের দেখতে শুরু করেছেন।



