পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ৪৮ ঘণ্টা সময়ও পায়নি আর্জেন্টিনা। এরইমধ্য কাল তাদের নক আউট পর্বের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। সকারুজরা মেসিদের চেয়ে চার ঘণ্টা বেশি সময় পেয়েছে। তবে তা দু’ম্যাচের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টা গ্যাপের জন্য যথেস্ট নয়। তাই ফিফার সমালোচনায় দুই দলই।

আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। ভেন্যু আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়াম।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচ রেনে মাউলেনস্টেন ক্ষুদ্ধ কণ্ঠেই বলেন, ‘কিভাবে ফিফা এভাবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। আমরাতো ফুটবলারদের রিকভারির সময়ই দিতে পারছি না। আমাদের জন্য ফুটবলারদের ফিট রাখাটা বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আলবিসেলেস্তেদের চেয়ে বিশ্রামের সময় বেশি পাওয়ার পরও এশিয়ান দেশটির এই ক্ষোভ। সেখানে দু’বারের বিশ্ব চাম্পিয়নরা কী বলবে। যেখানে বিষয়টা আরো প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে যখন আর্জেন্টিনা দলে বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসি পার করছেন ৩৫ বছর। এই বয়সেও তিনি গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচেই মাঠে ছিলেন পুরো ৯০ মিনিট।

তার মতো ফুটবলারের জন্য ৪৮ ঘণ্টা কম সময়ে এই ম্যাচ খেলা বাড়তি চাপ। এদিকে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠ থেকে ডি মারিয়ার উঠে যাওয়া লিওনেল স্ক্যালোনির দলের জন্য সতর্ক বার্তাও। মাঠে তিনি মেসির যোগ্য সহযোগী। তারও বয়স মেসির কাছাকাছি। ল্যাতিন দেশটির ফুটবলারদের ফিট রাখতে গত কাল অনুশীলন সেশনে সিরিয়াস ছিলেন ফিটনেস ট্রেইনাররা।

পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনা দল কোনো বিশ্রামই পায়নি। যেমনটা তারা পেয়েছিলেন সৌদি আরবের কাছে হারের পরও। কোচ স্ক্যালোনি যদিও বলেছেন ফিটনেসে কোনো সন্দেহ নেই ডি মারিয়ার। তবে এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের একাদশে থাকা নিয়ে সংশয় রয়েছেই। ইনজুরিতে ভুগছেন ২০১০ সাল থেকে বিশ্বকাপে খেলা এই ফুটবলার। তার সুস্থ রাখতেই জোর চেস্টা। যদি ডি মারিয়া না খেলেন তাহলে কে হবে তার বিকল্প। তার যোগ্য বিকল্প নেই দলে। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি খেলতে পারেননি ইনজুরির জন্য। ফলে জিততেও পারেনি আর্জেন্টিনা। এরপর কোপা আমেরিকার ফাইনালও তিনি মিস করেন একই সমস্যায়। ওই ম্যাচের হার দলের।

বিশ্বকাপে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ক্রিকেটের অজিদের টপকাতে হয়েছিল প্লে-অফে। তখন অস্ট্রেলিয়া ছিল ওশেনিয়া অঞ্চলে। সেবার অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ১-১ গোলে ড্র করে আসে আর্জেন্টিনা। পরে হোমে ফিরতি প্লে-অফে ১-০ তে জিতে কোয়ালিফাই করে আলফিও বাসিলের দল। দুই দলের এ পর্যন্ত হওয়া ৭ ম্যাচের ৫টিতে জয় আর্জেন্টিনার। ড্র ওই প্লে-অফে।

তবে উভয়ের প্রথম সাক্ষাতে অস্ট্রেলিয়া ৪-১ গোলে জিতেছিল। তা ছিল ১৯৮৮ সালে বাইসেন্ট্রেলিয়ান কাপে। দু’দলের সর্বশেষ সাক্ষাত ২০০৭ সালে ফিফা প্রীতি ম্যাচে। ওই খেলায় আর্জেন্টিনার জয় ১-০তে।