কারো শুরু জয়ে। কারো শেষটা জয়ে। প্রথম ম্যাচের মতো গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয়ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেশ কয়েকটি দল শেষ ম্যাচে জিতে আনন্দের বদলে কষ্টই পেয়েছে। গালভরা হাসি আর মাঠ মাতানো উল্লাসের বদলে চাপা কান্না নিয়েই মাঠ ত্যাগ এবং অতঃপর বাড়ি ফেরা।
কাতার বিশ্বকাপে তেমনই প্রচণ্ড কস্ট জাগানিয়া শেষ ম্যাচে জয় মেক্সিকো, জার্মানি, উরুগুয়ে, তিউনিসিয়া ও ক্যামেরুনের। এই জয় তারা আরো আগে পেলে ছাড়পত্র পেত নক আউট রাউন্ডের। কিন্তু বিলম্বিত এই জয় তাদের সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। সাথে বেদনায় নীল।
চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। কাতারের মাঠে ‘ই’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচেই তাদের হার জাপানের কাছে। এরপর স্পেনের সাথে ড্র করে আশা জিইয়ে রাখা। শেষ ম্যাচে স্পেন জিতে গেলে এবং নিজেরা কোস্টারিকাকে হারাতে পারলে জার্মানি চলে যেত দ্বিতীয় রাউন্ডে। জার্মানি ঠিকই ৪-২ গোলে জয় পেয়েছে কোস্টারিকার বিপক্ষে। কিন্তু জাপানের কাছে স্পেনের হারই আশাহত করেছে জার্মানদের। স্পেনের সাথে তাদের পয়েন্ট সমান ৪ হলেও গোল পার্থক্যে পিছিয়ে ছিল স্প্যানিশদের চেয়ে। তাই রাশিয়া বিশ্বকাপের মতো কাতার থেকেও গ্রুপ পর্বে বিদায় নিলো চার বারের কাপ জয়ীরা।
দু’বারের বিশ্বকাপ এবং ১৫ বারের কোপা আমেরিকা জয়ী দেশ উরুগুয়ে। বিশ্বকাপে তাদের সর্বশেষ সাফল্য ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে সেমিফাইনালে খেলা। এবার তারা ‘এইচ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ড্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। পরের খেলায় হার রোনালদোর পর্তুগালের কাছে। ফলে শেষ খেলায় তাদের জয়ের বাধ্যবাধকতা ছিল ঘানার বিপক্ষে। ঘানার আন্দ্রে আইউ’র পেনাল্টি মিসের সুবাধে ২-০ গোলের জয় ঠিকই ধরা দেয় উরুগুয়ানদের হাতে। তবে সেই জয়ের আনন্দ তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার জন্য করতে পারেনি।
অপর ম্যাচে যে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে হারের লজ্জা দেয় পর্তুগালকে। এতে উরুগুয়ে এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয় দলেরই পয়েন্ট ৪ এ দাঁড়ায়। গোল ব্যবধানও শূন্য। কিন্তু কোরিয়ানরা বেশি গোল দেয়ায় ল্যাতিন দেশটিকে টপকে দ্বিতীয় রাউন্ডে এশিয়ান দেশটি। লুইস সুয়ারেজরা ২ গোল দিয়ে খেয়েছে দুটি। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার দেয়া ও খাওয়া গোলের সংখ্যা চার করে।
প্রথম ম্যাচে পোল্যান্ডের সাথে ড্র। এরপর আর্জেন্টিনার কাছে ০-২ গোলে হার। নক আউট পর্বে যেতে তাই সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না মেক্সিকোর। সাথে আর্জেন্টিনাকে হারতে হতো পোল্যান্ডের কাছে। এশিয়ার দেশটি বিপক্ষে ৫৪ মিনিটে ২-০তে লিড নিয়ে ৯৪ মিনিট পর্যন্ত তা ধরেও রাখে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয়। কিন্তু পোল্যান্ডকে আর্জেন্টিনা হারিয়ে দেয়ার ফলে আশা শেষ হয়ে যায় মেক্সিকোর। তবে আর্জেন্টিনা ৪-০তে পোলিশদের হারালে কপাল খুলতো কনকাকাফ অঞ্চল থেকে আসা দলের। তাহলে গোল ব্যবধানে পরের রাউন্ডে যেত ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের আয়োজকরা। তা হয়নি বলে শেষ ম্যাচের জয় তেমন কোনো আনন্দই দেয়নি জেরার্ডো মার্টিনোর দলকে। পয়েন্টের সাথে যদি পোল্যান্ড ও মেক্সিকোর গোল সমান হতো তাতেও লাভ হতো না মেক্সিকোর। কারণ তারা বেশি হলুদ কার্ড পেয়েছিল।
এবারে বিশ্বকাপের আরেক চমক ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে তিউনিসিয়ার জয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার চান্স টিকিয়ে এই তাদের জয়ই দরকার ছিল। এ জন্য ‘ডি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ডেনমার্ককে ১-০তে জিততে হতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর তিউনিসিয়াকে ২-০তে জিততে হতো ফ্রান্সের বিপক্ষে। উত্তর আফ্রিকান দেশটি ১ গোলের বেশি দিতে পারেনি। অন্যদিকে ডেনমার্ক হেরে বসে সকারুজদের কাছে। ফলে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানোর সান্ত্বনা নেয়া ছাড়া আর কিছুই পায়নি তিউনিসিয়া।
‘জি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্যামেরুনের জয়ও বেদনা উদ্রেগ করা। গোল দেয়ার পর গোলদাতা ভিনসেন্ট আবু বকর জার্সি খুলে উল্লাস করতে গিয়ে লাল কার্ডও পান। তাদের এই জয় এসেছে ২০ বছর পর। রজার মিলার দেশের আগের জয়টি ছিল ২০০২ সালে সৌদি আরবের বিপক্ষে। কিন্তু জয়টি তাদের পরের ধাপে নিতে পারেনি অন্য ম্যাচে সার্বিয়া ৩-২ গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর ফলে।
আবার শেষ ম্যাচে জয় দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগের আনন্দ দিয়েছে আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মরক্কো, সেনেগাল, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রকে।



