নীতিমালা উপেক্ষা করে লাইসেন্সবিহীন স’মিল স্থাপন ও সরকারি বন বিভাগের গাছ গোপন আঁতাত করে অন্যত্র বিক্রি করাসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন সময়ে উপড়ে পড়া মূল্যবান গাছের বিধি মোতাবেক টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রির একাধিক অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ঊর্ধ্বতনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, বন কর্মকর্তা কামরুল হাসান এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে বন সম্পদ উজাড়ের মহোৎসব চলছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঘূর্ণিঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো উপজেলায় নেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও স’মিল মালিকদের নিকটে গোপনে বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে বলাবলি হলে তিনি নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেখিয়ে দায় শেষ করেন।
উপজেলার চরমার্টিন এলাকায় ইউছুফ আলী ও খোকনসহ কয়েকজন সুফলভোগী জানান, গত অক্টোবর মাসে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জাতের অসংখ্য মূল্যবান গাছ উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল হাসান স্থানীয় স’মিল মালিকের কাছে কয়েক লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেন। একই ইউনিয়নের সিরাজের সাথে আঁতাত করে বিক্রি করে প্রায় লাখ টাকার গাছ। গাছ ব্যবসায়ী আব্বাছকে দিয়ে বনসম্পদ রক্ষার পরিবর্তে ধ্বংসের অপকর্ম করে যাচ্ছেন তিনি। যেন রক্ষক এখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার মতো। এতে এক দিকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে, অন্য দিকে সুফলভোগী বাগান মালিক ও সদস্যদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

সুত্র জানান, বেশির ভাগ সময় জানাজানি না হলে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন ওই বন কর্মকর্তা। এমন একাধিক ঘটনা ঘটলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে।
ইউছুফ আলী ও খোকন আরো বলেন, চরমার্টিন এলাকাটি উপজেলা সদর থেকে অনেক দুর্গম হওয়ায় কর্মকর্তা তার ইচ্ছে মতোই এমন কাজ করেন। উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ না করলে এত গাছ কিভাবে বিক্রি করেন ওই কর্মকর্তা এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। সুফলভোগী অজিউল্যাহ ও সাহাব উদ্দিন একই অভিযোগ করেন।