শিল্পকলায় নাটকে নাট্যজন মামুনুর রশীদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মঞ্চে অভিনয় থেকে সাময়িক দূরে থাকার অনুরোধ করেছেন একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ। জানা গেছে জুলাই গণ-আন্দোলনে তিনি ছাত্র-জনতাকে নিয়ে রাজাকারসহ নানান নেতিবাচক কটূক্তি করে আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এর ফলে শিল্পীদের প্রতিবাদে তাকে নাটকে অভিনয় থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। মহিলা সমিতি মঞ্চেও অভিনয় করেছেন। তাতেও কোনো সমস্যা হয়নি। অথচ এখন শিল্পকলার ডিজি নাটকে অভিনয় না করতে তাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। ‘রাঢ়াঙ’ নাটকের ২০০তম প্রদর্শনী হয়েছে। এখন আমাকে বলা হচ্ছে, এই নাটকে যেন অভিনয় না করি। কারণ হিসেবে ডিজি ছাত্র আন্দোলনের সময় দেয়া ২৪ জন বিশিষ্টজনের একটি বিবৃতির কথা জানিয়েছেন।
শিল্পকলায় মামুনুর রশীদের অভিনয় করা থেকে বিরত থাকা প্রসঙ্গে একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, ‘আমি মামুনুর রশীদকে নিজে ফোন করে তাদের ‘রাঢ়াঙ’ নাটকের শো করতে বলেছিলাম। এই নাটকটি করা দরকার। এই নাটকে উনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। তাকে অনুরোধ করেছি, সেই চরিত্র যদি অন্য কাউকে দিয়ে করানো যায়। কারণ আপনি যেহেতু আন্দোলনের সময় রাজাকার নিয়ে কিছু বলেছিলেন, এটা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ, কষ্ট আছে। আপনি গেলে মানুষের সেই কষ্টটা বাড়বে। সে জন্য আপনি ছাড়া যদি নাটকটির প্রদর্শনী সম্ভব হয়, এটা আপনি দেখেন।
মঞ্চে অভিনয় না করার এমন অনুরোধে ক্ষোভ জানিয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, আমি কি অভিনয় করতে পারব না! আমার কোনো অপরাধ নেই, অথচ আমাকে অভিনয় করতে দেবে না। রাজাকার স্লোগান নিয়ে ২৪ জন বিশিষ্টজন বিবৃতি দিয়েছিলেন, সেখানে আমার নাম ছিল। ওই বিবৃতিতে কী অপরাধ আছে? এখন তো বলা হচ্ছে, আপনারা কথা বলেন। সেই কথাই বলতে পারব না? এমন একটা সময় চলে এসেছে এই বাংলাদেশে, একটি মহল তো চাচ্ছেই শিল্পসাহিত্য-সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যাক। আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি, ‘রাঢ়াঙ’ আমরা করব না, ‘ কোম্পানি’ও করব না। চলুক যত দিন এই ব্যবস্থা চলে’।





