কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জামায়াত নেতা বেলাল হোসেন মজুমদারকে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়ার ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলামসহ ২৮ জনের নামে ম্যাজিস্ট্রিট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রিট আদালতে বেলাল হোসেন এ মামলা দায়ের করেন।
বেলাল হোসেন মজুমদারকে নাঙ্গলকোট থানার তৎকালীন ওসির নেতৃত্বে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ক্রস ফায়ারের নাটক সাজিয়ে বাম পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হয়। এ ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর বেলাল হোসেন মামলা করার সুযোগ পেলেন। এ মামলায় বাবর আলী ও ফরিদ নামের দু’জন এসআই, চারজন কনস্টেবল এবং নাঙ্গলকোট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেকসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। বেলাল হোসেন উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের বাম পণ্ডিত বাড়ির আলী হায়দারের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি একটি কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৮ ফ্রেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তৎকালীন নাঙ্গলকোট উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদে তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ বেলালকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লুদুয়া নামকস্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ওসি নজরুল চাইনিজ শর্টগান দিয়ে বেলালের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি করে। পরে পুলিশ তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ২-৩ দিন চিকিৎসার পর ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে রেফার করেন। ওই সময় ওসি বলেন, আসামি মারা গেলে এখানে মারা যাবে। ঢাকায় নেয়া যাবে না। উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার ১০ দিন পর ডাক্তাররা বেলালের বাম পায়ের হাঁটুর ওপর থেকে নিচের অংশ কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
বেলাল হোসেন বলেন, জামায়াতের রাজনীতি করি এটাই আমার অপরাধ ছিল। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। আজ পঙ্গুত্ববরণ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে আমাকে। আমি ওসি নজরুল ও অন্য পুলিশের সদস্যসহ সব আসামির উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।





