নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রঘুনাথপুর গ্রামের মাটি যেন সোনার চেয়েও খাঁটি। নিতপুর সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পূনর্ভবা নদীর পূর্ব পাশে নদীর তীর ঘেঁষা ওই গ্রামের আশপাশে যে কোনো জায়গা খনন করলেই মিলছে নানা প্রকার মূল্যবান ধাতব দ্রব্য, ছোট পাথর ও তৈজসপত্র।
বিগত ১৪-১৫ বছর ধরে অর্ধশতাধিক লোক দিনের পর দিন দল বেঁধে প্রতিনিয়িত মাটি খনন করে চলছেন। মাটি খনন করে বিভিন্ন মূল্যবান ধাতবদ্রব্য পাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পাহাড়পুর জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না তারা। এ ঘটনায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যবান ওইসব ধাতব সম্পদ উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি টেকঠা গ্রামের একখণ্ড জমিতে মাটি কাটতে গিয়ে একখণ্ড মূল্যবান ধাতব খণ্ডটি পান। এ রকম খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মাটি খননের কাজ শুরু করেন। সেই থেকে প্রতিদিন স্থানীয়রা যে যার মত করে কোদাল, খুনতি, শাবল দিয়ে মাটি খনন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রায় পাঁচ থেকে আট ফিট মাটি খনন করলেই মিলছে মূল্যবান জিনিস। পাওয়া যাচ্ছে ছোট বড় অনেক রকমের পাথরসহ মূল্যবান সম্পদ। পয়সা, তাবিজ, তসবিহ দানা, পাথর, ছোট-বল, পাথরের বল ইত্যাদি। এগুলো বিভিন্ন রঙের। লাল, কাল, সাদা, কমলা, সবুজ এবং কতগুলো গোলাপী রঙের।
অনেকে স্বর্ণও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে প্রাপ্ত স্বর্ণগুলো তারা বিক্রি না করে নিজের কাছেই রেখে দিচ্ছেন। অন্যান্য পাথর কেউ পেলে তিনি তা বিক্রি করে দেন।
ক্রেতারা খবর পেয়ে এসে তাৎক্ষণিক দ্রব্যগুলো কিনে নিয়ে যান। পাথরগুলোর ওজন ও রকমভেদে প্রায় ১২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, প্রাপ্ত দ্রব্যগুলোর গুণগত মান অনুযায়ী ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, বিগত সময়ে এ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। নদীর তীরবর্তী স্থানে হাট-বাজার বসত। এখানকার হাট-বাজারসহ স্থানীয় হিন্দুরা বিভিন্ন স্থানে চলে যাওয়ায় হয়তো তাদের মূল্যবান জিনিসগুলো এখানেই পড়েছিল। সেগুলো আর নিয়ে যাওয়া হয়নি।
অনেকে জানান, যে এলাকায় মূল্যবান জিনিসগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেখানে হাটবাজার বসত। যার প্রমাণ হিসেবে কালিদহ নামে একটি কূপ আজও বিদ্যমান আছে নদীতে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় এখানে বসবাসকারী অনেক জমিদার ও সম্পদশালী হিন্দু পরিবার সবাই পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যান। তাদের ব্যবহৃত মূল্যবান জিনিসপত্র এখানেই রয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাটি খনন কাজে নিয়োজিত পশ্চিম রঘুনাথপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন থেকে মাটি খুঁড়ছেন। এ পর্যন্ত শুধু একটি জালিবল পেয়েছেন। এ ছাড়াও অনেকে বুতাম, মার্বেল, জালি পোটল, ফুটবল, গোলাপি বল পেয়েছেন। এগুলো ৫০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে তিনি জানান। সংবাদ পেয়ে অন্য এলাকা থেকে এসে ক্রেতারা দ্রব্যগুলো কিনে নিয়ে যায়। তবে মাটি খনন করে পাওয়া স্বর্ণালঙ্কার কেউ বিক্রি করেন না।
নিতপুর গ্রামের আমির উদ্দিন জানান, বিগত ১৪-১৫ বছর থেকে অনেক মানুষ মাটি খনন করে মাটির নিচে থাকা মূল্যবান ধাতবদ্রব্য ও জিনিসপত্র তুলে নিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন এগুলো উত্তোলন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মূল্যবান সম্পদগুলো উত্তোলন করে সংরক্ষণ করা দরকার। এ বিষয়ে পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টডিয়ান ফজলুল করিম জানান, প্রতœতাত্ত্বিক দিক থেকে এ উপজেলা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এলাকাটি তারা অনেকবার পরিদর্শন করেছেন। এখানে খনন কাজ বন্ধ করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়েছেন।
পোরশায় ধাতব দ্রব্যের সন্ধানে ১৫ বছর ধরে মাটি খনন
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রঘুনাথপুর গ্রামের মাটি যেন সোনার চেয়েও খাঁটি। নিতপুর সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পূনর্ভবা নদীর পূর্ব পাশে নদীর তীর ঘেঁষা...





