যশোরের চৌগাছায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবীতে বিক্ষোভ করেছে গ্রাম পুলিশরা। তাদের থানা হাজিরার টাকা ও বকেয়া বেতন চাওয়ায় চৌকিদার-দফাদারদের (গ্রাম পুলিশ) সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার পরপরই এর প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চৌকিদার-দফাদারগণ একত্রে ইউএনও অফিসের সামনে বিক্ষোভ করতে প্রদর্শন করতে থাকেন।
সোমবার বেলা ১২ টার দিকে চৌগাছা উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেনের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি উপজেলা চৌকিদার দফাদার সমিতির থানা সভাপতি রেজাউল ইসলামকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং তাকে লাঠিপেটা করতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করেছেন সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান।
উপজেলা গ্রাম পুলিশ সমিতির সভাপতি ও ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার রেজাউল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের থানা হাজিরা (প্যারেডের) ও বকেয়া বিলে স্বাক্ষর করার অনুরোধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গেলে তিনি বলেন বিষয়টি তো তোমাদের বুঝিয়ে বলেছি।
একথা বলেই তিনি আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেন এবং তার কর্মচারিদের বলেন এই আমার গাড়ি থেকে লাঠিটি নিয়ে আসো তো ওকে পিটিয়ে বের করে দিই। এ সময় তিনি আমাকে বারবার গালি দিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। সে এ সময় ইউএনও অফিসে থাকা হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান আমাদের বাইরে বেরিয়ে যেতে বললে আমরা বাইরে চলে যাই।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্বরূপদাহ ইউপির দফাদার হাসানুজ্জামান বলেন আমাদের থানা হাজিরার ১১ মাসের ভাতা বকেয়া রয়েছে। আমরা সামান্য বেতনে চাকরি করি। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাই। সেখানে একজনের প্রতি মাসে প্রায় ১২০০ টাকা করে ১১ মাসের ভাতার টাকা বাকি রয়েছে। সেই টাকা চাইতে গেলে ইউএনও আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।
বিক্ষোভের সময় উপজেলা পরিষদের ছিলেন না উপজেলা চেয়াম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। তারা ঘটনা শুনে পরিষদে আসলে বিকাল চারটায় উপজেলার সকল চৌকিদার-দফাদার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তাদের সাথে ইউএনওর অসাদাচারনের বিষয়ে অবহিত করেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনওর সাথে কথা বলে বিক্ষোভকারী চৌকিদার-দফাদারদের আস্বস্ত করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাকিমপুর ইউপি চেয়ামর‌্যান মাসুদুল হাসান বলেন ইউএনও তাদের উপর রাগারাগি করেছেন, গালিগালাজ করেন নি। তিনি বলেছেন যে ফান্ড আছে তা দিয়ে বেতন-ভাতাই পরিশোধ করা যাচ্ছে না। থানা প্যারেডের হাজিরা দেব কিভাবে? ফান্ড না থাকলে আমি কোথা থেকে দেব? পরে আমি নিজে তাদের বলি গোলমাল না করে অফিস থেকে চলে যেতে। মাসুদুল হাসান বলেন পরে এবিষয়ে আমি ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি তাদের বলে দিয়েছি ফান্ডে টাকা আসলেই ওই ভাতা দেয়া হবে। একথা তাদের অনেকবার বুঝালেও তারা বারবার জোট বেঁধে একই দাবিতে আমার অফিসে আসেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেন বলেন তারা ভাতার টাকা চায়। তাদের বুঝিয়ে বলা সত্বেও জোঁট বেধে প্রত্যহ অফিসে আসে। তবে গালিগালাজ করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান বলেন ফান্ডে টাকা না থাকায় তাদের বকেয়া ভাতা দেয়া যাচ্ছে না বলে ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন। যে টাকা রয়েছে তা ইউপি সচিবদের জন্য জেলা পরিষদে দিতে হবে। তবে তার সাথে কথা বলে যে টাকা আছে সেখান থেকে ঈদের আগে যথাসম্ভব বকেয়া টাকা চৌকিদার-দফাদারদের দেয়া হবে। খারাপ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন ইউএনও যদি এটা করে থাকেন তাহলে সেটা তিনি ঠিক করেন নি। একজন উর্দ্ধতন সরকারি কর্মকর্তা এমনটি করতে পারেন না। বিষয়টি তাদেরকে বুঝিয়ে বলা যেত।
প্রসঙ্গত চৌকিদার-দফাদাররা (গ্রাম পুলিশ) উপজেলা পরিষদের ভূমি আয়ের ১% থেকে তাদের বেতন-ভাতার একটি অংশ পেয়ে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে থানায় তাদের হাজিরা দিয়ে প্যারেডে অংশ নিতে হয়। এরজন্য জন প্রতি তিনশত টাকা করে ভাতা দেয়া হয় একই উৎস থেকে।