নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় অমৃতসাগর কলা চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। অধিক ফলন ও অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় কৃষকরাও ঝুঁকছেন অমৃতসাগর কলা চাষে।
জানা যায়, মুঘল আমল থেকেই নরসিংদীর কলার সুখ্যাতি ছিল দেশজুড়ে। আর নানা জাতের কলার মাঝে সাগর কলার চাহিদা ছিল সবার উপরে। এই সাগর কলার জন্য বিখ্যাত হলো মনোহরদী উপজেলা। লোকমুখে শোনা যায় সাগর কলার নাম অনুসারে উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের সাগরদী এলাকার নামকরণ হয়েছে। পাঁচ বছর আগেও কৃষকদের মাঝে অন্যান্য ফসলের ভিড়ে লাভ কম ভেবে কলা চাষে কিছুটা অনাগ্রহ দেখা গেলেও উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় বর্তমানে অমৃতসাগর কলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মনোহরদী উপজেলায় এক হাজার হেক্টর জমিতে কলার আবাদ করা হয়েছে। যার মাঝে অধিকাংশই অমৃতসাগর কলা। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় সল্লাবাইদ, চন্দনবাড়ি, আসাদনগর, চালাকচর ও দৌলতপুর এলাকায় বেশি কলা চাষ হয়েছে।
কৃষকরা জানান, ওই উপজেলায় চাম্পা, সবরি, হোমাই ও গেরাসুন্দর কলা চাষ হলেও বর্তমানে অমৃতসাগরের চাষ হচ্ছে অনেক বেশি। বাজারেও ওই অঞ্চলের কলার চাহিদা ভালো থাকায় যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন তারা।
সাধারণত বৈশাখ মাসের শুরুতে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফল পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে এক সপ্তাহের বেশি পানি জমে থাকে না সেসব জমিতে কলার ফলন ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে জাত ভেদে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ চারা রোপণ করতে হয়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিক্রি হয় সিজন প্রতি ৮০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত, যা অন্য কোনো ফসলে সম্ভব নয়।
চন্দনবাড়ি গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আমি আড়াই বিঘা জমিতে সাড়ে ৮০০ চারা নিয়ে অমৃতসাগর কলার বাগান করেছি। বাগানে যথাযথ পরিচর্যার কারণে আট মাস পরেই ভালো ফলন পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করলেও বাগানে এখনো আরো ৭০ হাজার টাকার কলা রয়ে গেছে।
সরেজমিন উপজেরার মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড, চালাকচর ও হাতিরদিয়া কলাবাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সবরি কলা প্রতি ছড়া আকার ও প্রকার ভেদে ২০০-৫০০ টাকা, সাগর কলা ২৫০-৮০০ টাকা, চাম্পা কলা ১৫০-৩০০ টাকা এবং হোমাই কলা ৩০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মনোহরদী উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ বলেন, নরসিংদী জেলায় সবচেয়ে বেশি অমৃতসাগর কলা উৎপাদন হয় মনোহরদী উপজেলায়। ওই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব সময় কলার প্রদর্শনীর আয়োজনসহ বিভিন্নভাবে কলা চাষিদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।