ঢাকার দোহার উপজেলার সর্বত্র এখন কুকুর আতঙ্ক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর আসছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে কুকুরের কামড়ে ২৭ জন আহত হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। বেওয়ারিশ এসব কুকুর নিধনে দোহার পৌরসভা ও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর, চরলটাখোলা, হরিচণ্ডি এ তিনটি গ্রামে একের পর এক মানুষকে পাগলা কুকুর কামড় দেয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কুকুরের কামড়ে এ তিনটি গ্রামে শিশু, কিশোর, কিশোরী, বয়োঃবৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ ২৭ জন আহত হয়েছেন। দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্টার থেকে জানা যায়, গত এক মাসে ৫০ জনকে বেওয়ারিশ কুকুর কামড়িয়েছে। কুকুরের কামড়ে আহতরা হচ্ছেনÑ শিলাকোঠা গ্রামের ফাহিম (১৩), চরলটাখোলায় তাইবা (৭), আকাশ (৬), হেনা (২৭), শামীম হোসেন (২৫), তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), মিতু (২৬), নুরু (৪০), চরকুশাইররে রেশা (৬০), মোহাম্মদপুরে সত্তর মুন্সী (৬৫) দক্ষিণ ব্রাহা গ্রামের মর্জিয়া (৭), চর মহম্মদপুরে রস্নি, আলামিন (৬), চরবইতা গ্রামের সত্তর মোল্লা (৫০), শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের আনু (৯০), নারায়ণপুর গ্রামের মমতা (৪০), মৌড়া গ্রামের মোসলেম (৬০)।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মাজহারুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত অনেক রোগী এখানে আসছে। ভ্যাকসিন না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জরুরি চিকিৎসসেবা দেয়া যাচ্ছে না। ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হচ্ছে।
আহত সত্তর মুন্সি বলেন, কুকুরে কামড়ের পর তিনি ভ্যাকসিনের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কিন্তু ভ্যাকসিন পাননি। বাধ্য হয়ে তিনি মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু ড্রেসিং করে দেয়া হয়েছে। দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন সরবরাহের সেবা চালু করা যায়নি। তবে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়। সেখান থেকে এই সেবা নিতে পরামর্শ দেন তিনি।