নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে গার্মেন্ট ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিল পাড়া এলাকায় মুনলাক্স কম্পোজিট নিট গার্মেন্ট লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় গার্মেন্টটির জিএম মনিরসহ আরো দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত তিনজনের মধ্যে দু’জনকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিকরা জানায়, গার্মেন্টের এইচআর এডমিন সিহাব উদ্দিন রোববার বহিরাগত লোক এনে অপারেটর আমিনুলকে গার্মেন্টে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আটকে রাখে এবং হুমকি দিয়ে তাকে বিনা নোটিশে ছাঁটাই করে দেয়। এরই জের ধরে সোমবার সকালে শ্রমিকরা
আমিনুলের ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহারের জন্য এইচআর এডমিন সিহাব উদ্দিনকে অনুরোধ করলে তিনি শ্রমিকদের গালমন্দ করতে থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা মালিকপক্ষের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই গার্মেন্ট ভাঙচুর করতে থাকে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এ সময় গার্মেন্টের অফিস কক্ষ, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কক্ষ ও কনফারেন্স রুম ভাঙচুর করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, গার্মেন্টে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আমরা মালিকপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলছি। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবিগুলো মেনে না নিলে এবং শ্রমিকরা অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গার্মেন্টটির মালিক মহিউদ্দিন জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গার্মেন্টে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে গার্মেন্টের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান। বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই শ্রমিক স্বেচ্ছায় এ মাসের পর চাকরি করবে না বলে জানানোর পর তার পাওনাদি আমরা তাকে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সে পাওনাদি পাওয়া সত্ত্বেও আরো ২৫-৩০ জনকে আগাম তিন মাসের পাওনা নিয়ে বের হয়ে যেতে আমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছিল। আমরা তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় তারা ভাঙচুর করে এবং জিএমকে মারধর করে। এতে তার তিনজন কর্মকর্তা আহত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।





