বাগেরহাটের চিতলমারী থানা পুলিশ প্রায় দেড় যুগ ধরে চলা ‘গোল্ড কয়েন’ চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও মামলার পর পুলিশের অভিযানে এক সদস্য আটকের পর চক্রটি ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ চক্রের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) জেলহাজতে আটক দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করেছেন। গত শনিবার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বাস ও ট্রাকচালক মো: আইয়ুব আলী (৩৫) ‘গোল্ড কয়েন’ চক্রের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ, মামলার বাদি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাবুগঞ্জ বাজার এলাকায় প্রায় দেড় যুগ ধরে একটি শক্তিশালী চক্র ‘গোল্ড কয়েন’ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। কিছু প্রভাবশালী ও নেপথ্য নায়কদের ছত্রছায়ায় ওই চক্রের সদস্যরা সামান্য পরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর সুযোগ মতো ওইসব ব্যক্তিদের মূল্যবান গোল্ড কয়েন দেয়ার কথা বলে। তারা বিশ্বাস বাড়াতে লোকদের এলাকায় এনে স্থানীয় স্বর্ণকারের দোকানে নিয়ে গোল্ড কয়েন পরীক্ষা করে দেখান। এরপর দর কষাকষি চলতে থাকে। নির্ধারিত দিনে ক্রেতাকে টাকা নিয়ে আসতে বলেন। টাকা নিয়ে এলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে টাকাসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেন। এভাবেই গত প্রায় এক দেড় যুগ ধরে প্রতারণা করে আসছে চিতলমারীর এই ‘গোল্ড কয়েন’ চক্রটি।
এরই ধারাবাহিকতায় কিছু দিন আগে এ চক্রের খপ্পরে পড়েন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দুলালী গ্রামের মৃত শমজেদ আলী গাজীর ছেলে বাস ও ট্রাকচালক মো: আইয়ুব আলী। চক্রটি তাকে গোল্ড কয়েনের কথা বলে। প্রথমেই তিনি এটা কিনতে অস্বীকার করেন। পরে চক্রটির অনুরোধে রাজি হন। অবশেষে ২৭ সেপ্টেম্বর তার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীর কাছ থেকে সুদে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নিয়ে চিতলমারীতে আসেন। এ দিন দুপুরে ‘গোল্ড কয়েন’ চক্রের সদস্যরা তাকে স্থানীয় ডাকাতিয়ার মোড় এলাকার নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। এরপর তার কাছ থেকে জোরপূর্বক সব টাকা নিয়ে তাকে কাউকে কিছু না বলার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তিনি ৪ দিন ধরে খেয়ে না খেয়ে চিতলমারীর পথে পথে ঘুরতে থাকেন। বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি বাদি হয়ে গত শনিবার চিতলমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে। রোববার পুলিশ মামলার প্রধান আসামি চিতলমারী উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের মৃত রঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে কিরণ বিশ্বাসকে (৪৫) আটক করে এবং কিরণের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গোল্ড কয়েন বিক্রির ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এরপর চক্রের সর্বস্তরের সদস্যরা গা ঢাকা দেয়। সোমবার মামলার অপর এক আসামি একই গ্রামের রুহিদাস বিশ্বাসের ছেলে রঞ্জিত বিশ্বাস (৪৮) আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠান। এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই নিকুঞ্জ রায় গতকাল মঙ্গলবার আদালতে জেলহাজতে আটক দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করেছেন।
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে চলা গোল্ড কয়েন চক্রের আস্তানা পুলিশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এ চক্রের সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ চক্রের নেপথ্য নায়কদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।