বগুড়ার শাজাহানপুরে বিভিন্ন সড়ক দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা । ফলে উপজেলার বেশির ভাগ সড়ক সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে জনগনের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি সীমাহীন হলেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার মাঝিড়া-দুবলাগাড়ি সড়ক, টেংগামাগুর-নয়মাইল সড়ক, বীরগ্রাম-মাঝিড়া সড়ক, নয়মাইল-আমরুল ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক, নয়মাইল-দাড়িগাছা সড়ক, আড়িয়াবাজার-ডেমাজানি সড়ক, মাদলা-জালশুকা-বাগবাড়ি সড়ক এবং কাটাবাড়িয়া, রানীরহাট-শাবরুল, বনানী ও গণ্ডগ্রাম এলাকার সড়কগুলো দখলদারদের কারণে সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে। দু’টি পরিবহন দু’দিক থেকে একসাথে চলাচল করতে পারছে না। এতে করে জনসাধারণের শুধু ভোগন্তিই হচ্ছে না, জরুরি প্রয়োজনে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, প্রশাসনের গাড়ি ও থানা পুলিশের গাড়ি যাতায়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর দিনের পর দিন সড়কগুলোতে এভাবে দখল হতে থাকলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
দেখা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলাটি বগুড়া শহর সংলগ্ন হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকা শহর কেন্দ্রিক। সঙ্গত কারণে এ উপজেলার রাস্তাঘাটগুলোতে মানুষ ও যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। অথচ এসব রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শত শত দোকান। দিনদুপুরে এভাবে দোকান গড়ে উঠলেও যেন দেখার কেউ নেই।
জানা গেছে, মাঝিড়া থেকে দুবলাগাড়ী পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তে প্রায় ২৬ ফুট আবার কোথাও আরো বেশি। কিন্তু বাস্তবে কোথাও ১৮ ফুটও নেই। কাটাবাড়িয়া মোড়ে ৩০ ফুট প্রশস্তের সড়কটি এখন ১৮ রুটেরও কম হয়ে গেছে। নয়মাইল স্ট্যান্ডের দাড়িগাছা সড়কটি প্রশস্তে ৩৬ ফুট হলেও খুব সঙ্কীর্ণ অংশ দিয়ে যাতায়াত চলে। জামাদারপুকুর স্ট্যান্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের এক মাস যেতে না যেতেই আবারো শুরু হয়েছে দখল। এ নিয়ে পাশের মার্কেট মালিকদের সাথে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। একই অবস্থা অন্যান্য সড়কেরও।
স্থানীয়রা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নীরবতায় এভাবে দখলে দখলে সঙ্কীর্ণ হচ্ছে সড়ক। জনসাধারণও দুর্বৃত্তদের ভয়ে মুখ খোলেন না। দেখেও না দেখার ভান করেন। ফলে অবৈধ দখলকারীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানান, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সড়ক দখল চলছে মহা সমারোহে। কিন্তু এসব দেখভাল করার দায়িত্বে যারা আছেন তারা না ধরলে তারা কী করবেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানগুলো ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
স্থানীয় গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামাদার পুকুর বণিক সমিতির সভাপতি আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জানান, রাতের আঁধারে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে সড়কগুলো সংকীর্ণ করেছে টাউটরা। কিন্তু ব্যবস্থা না নেয়ায় এদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। আর ভোগান্তি হচ্ছে পরিবহন যাতায়াতে। শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান একটা জটিল বিষয়। স্থানগুলো দেখে প্রতিবেদন দেয়ার পর তা মনজুর হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভিন বলেন, অবৈধ দখলের বিষয়টি জানা নেই। কেউ অভিযোগও দেয়নি। তবে সরেজমিনে তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
শাজাহানপুরে দখলে দখলে সঙ্কীর্ণ সড়ক
বগুড়ার শাজাহানপুরে বিভিন্ন সড়ক দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা । ফলে উপজেলার বেশির ভাগ সড়ক সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে জনগনের দুর্ভোগ ও...





