সিলেটের গোলাপগঞ্জে দলিল জালিয়াতির দায়ে জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেনÑ উপজেলার নিমাদল গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে খলিলুর রহমান, একই উপজেলার হাজিপুর শুকনা গ্রামের মৃত মকবুল আলীর ছেলে সালিক আহমদ ও শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে সুহেল আহমদ।
উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের কিসমত মাইজভাগ গ্রামের মৃত আব্দুল হাই চৌধুরীর ছেলে সুমন আহমদ চৌধুরী বাদি হয়ে জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। পরে পিবিআইকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অভিযুক্তরা সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মাধ্যমে একটি পরিবারের দলিল জালিয়াতি করে তাদের হয়রানি ও মামলায় জেলে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদি সুমন আহমদ চৌধুরীর ভাই প্রবাসী আবুল খায়ের চৌধুরী দেশে থাকা অবস্থায় হেতিমগঞ্জ বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে একই উপজেলার নিমাদল গ্রামের সাইফুল ইসলাম আরব আলীর ছেলে ও লক্ষ্মীপাশা ইউপির সদস্য মামলায় অভিযুক্ত রুহেল আহমদের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে আবুল খায়ের প্রবাসে যাওয়ার পর ইউপি সদস্য রুহেল আহমদ প্রতারক চক্রের সাহায্যে জাল দলিল তৈরি করে টাকা পাওনা দেখিয়ে সাতটি উকিল নোটিশ পাঠান। পরে রুহেল মামলা করলে সুমন আহমদ ও তার মাকে আদালত কর্তৃক জেলে পাঠানো হয়। পরে জামিনে জেল থেকে বের হয়ে মামলার নথি সংগ্রহ করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দলিল জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
জানা যায়, অজ্ঞাত কারণে ইউপি সদস্য রুহেল আহমদ একই এলাকার মৃত শফিক উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান বাবুল ও সিলেট কোর্টের নোটারি পাবলিক আইনজীবী আবুল হাসানের যোগসাজশে প্রতারক চক্রটি প্রয়োজনীয় দলিল জালিয়াতি করে আদালতের রায় নেন। পরে মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।