কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ধর্মের নামে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাধা বরদাশত করা হবে না। ধর্মের নামে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রত্যেক জেলায় ও উপজেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে মাহবুব উল আলম হানিফ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ধর্মের নামে তাণ্ডব চালায় তাদের পাল্টা আঘাত করা হবে। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি। এখন থেকে আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিচ্ছি সরকারের পাশে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার।
প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক অ্যাডভোকেট মৃণালকান্তি দাস, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু শহীদ মো: বাদল প্রমুখ।
মাহবুব উল আলম হানিফ হেফাজত-বিএনপি-জামায়াতের যেসব সন্ত্রাসী এসব ভাঙচুর-জ্বালাও-পোড়াও করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আসামি করার পরামর্শ দেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, যারা বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি তারাই এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দেশকে তালেবানি, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ। আমরা বাংলাদেশকে কোনোভাবেই অপশক্তির হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। সে সময় মামুনুল হক জানান, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পুলিশ গিয়ে ওই অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা রিসোর্ট থেকে হেফাজত নেতাকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়, নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা।





