বাগেরহাটের চিতলমারীতে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে চিংড়ি ঘের। গরম পানিতে মরে যাচ্ছে মাছ। তাই পোনা ছাড়ার ভরা মৌসুমে ঘেরে চিংড়ির রেণু পোনা ছাড়তে না পেরে চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সময় মতো পোনা ছাড়তে না পারায় উপজেলার চিংড়ি শিল্পে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। কুরমনি গ্রামের চিংড়ি চাষি রেজাউল দাড়িয়া, বলরাম বিশ্বাস, সুরশাইল গ্রামের মানু শেখ, শুধাংসু মণ্ডল ও পাটরপাড়া গ্রামের মুজিবর বিশ্বাসের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।
চাষিরা বলেন, ঘেরে রেণু পোনা ছাড়ার মৌসুম চলছে। ভরা এ মৌসুমে ঘের তৈরি করেও আমরা ঘেরে পোনা ছাড়তে পারছি না। কারণ গরম পানিতে মাছ মরে যাচ্ছে। পোনা ছাড়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। আর এ রকম চলতে থাকলে এ উপজেলার চিংড়ি শিল্প ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে।
ব্রহ্মগাতি গ্রামের চিংড়ি চাষি মোক্তার শেখ, রবীন্দ্র নাথ মণ্ডল, দেবেন্দ্র নাথ মণ্ডল, মনি বৈরাগী, গুরুপদ বৈরাগী, বাবুরায়সহ অনেক চাষি বলেন, গত কয়েক দিনে আমাদের চিংড়ি ঘেরের পানি শুকিয়ে গেছে। সময় মতো ঘেরে রেণুু পোনা ছাড়তে না পারলে চরম বিপাকে পড়তে হবে।
সুরসাইল গ্রামের মৎস্য চাষি সোহেব সুলতান সানু জানান, এ উপজেলায় অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘেরের কারণে প্রতি বছর কোনো না কোনো বিপর্যয় হয়ে থাকে। তাছাড়া এ বছর বৃষ্টিপাত একেবারেই কম হওয়ায় ঘেরে তেমন পানি নেই। তাই সময় মতো ঘেরে রেণু পোনা ছাড়তে না পেরে চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
চিতলমারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল জিল্লুর রহমান রিগান জানান, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপাদাহে চিংড়ি মাছের ঘের শুকিয়ে যাচ্ছে। উঁচু অঞ্চলের অনেক চাষি মাছ ছাড়তে পারছেন না। তবে নিচু এলাকার চাষিদের এ সমস্যা কম। তিনি যেকোনো সমস্যায় তার ০১৭১৪-৯৩৯৩০৩ নং মোবাইল ফোনে চাষিদের যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।





