পাইকগাছার কপিলমুনির নাছিরপুরের অসহায় ভূমি ও গৃহহীন মফিজুল দম্পতির মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি আজো। বাথরুমের ট্যাংকের ছাদের উপর ভাড়ায় নেয়া খুপড়িতে বসবাস তাদের। সেখানে কেটে গেছে জীবনের সাতটি বছর। মুজিববর্ষে ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমিসহ ঘর প্রদানের খবরে বাথরুমের খুপড়ি থেকে মুক্তি চান তারা। কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রাণের আকুতি শুধুমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটু আশ্রয় দিন।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের নাছিরপুরের বাসিন্দা মফিজুল মোড়ল, পিতা তুরফান মোড়ল, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর- ১৫০৬২০৫২৭৫। তাদের নিজস্ব কোনো ভিটা-বাড়ি না থাকায় প্রায় ৭ বছর ধরে বসবাস করছেন, একই এলাকার জনৈক হাফিজুর রহমানের বিল্ডিং-এর বাথরুমের ট্যাংকের ছাদ ভাড়া নিয়ে। মাসিক ৫ শ’ টাকা চুক্তিতে ভাড়ায় নেয়া ট্যাংকের উপর খুপড়িতে স্ত্রী-পরিজন নিয়ে বহুকষ্ঠে বসবাস করছেন তারা।

চলতি বর্ষা মৌসুমে বাথরুমের উটকো দুর্গন্ধে খুপড়ি ছেড়ে রাস্তায় নামার উপক্রম হয়েছে তাদের।

মফিজুল জানায়, তারা দু’ভাই বোন। তাদের বাবার কোনো জায়গা-জমি এমনকি কোথাও বসবাসের কোনো ঘর নেই। কর্মক্ষম, দরিদ্র অসুস্থ বাবা কোনো দিন ঘরের চালের নীচে মাথা দেয়নি। অর্ধাহারে-অনাহারে তার মা হাসিনা বেগম আজ এ বাড়ি, তো কাল অন্য বাড়ির বারান্দায় প্রতিবেশীদের লাঞ্ছনা-গঞ্জনা শুনে কোনো রকম দিনাতিপাত করছেন। এমন অবস্থায় তার বাবার মস্তিষ্কেও ঘটেছে বিভ্রাট। মাঝে-মধ্যে তিনি কাউকে কিছু না জনিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। আবার স্মৃতি ফিরলে ফিরে আসেন এলাকায়। এভাবেই চলছে তাদের জীবন-সংসার।

পাশের তালা উপজেলার মাছিয়াড়া বাবা তুরফানের স্থায়ী নিবাস হলেও জন্মের পর থেকে নাছিরপুর নানীর বাড়ীতেই বেড়ে ওঠা তার। ছোট বেলা থেকেই দেখেছেন, মা ও নানীর পরের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চিত্র। বৃদ্ধা নানীর কাছে থেকে শৈশব থেকে অদ্যবধি জীবনের ১০টি বছর কাটছে পরের বাথরুমের ট্যাংকির উপর ভাড়া খুপড়িতে।

সারাদিন মানুষের কামলা খেটে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই কোনো রকম চলে ঘুনে ধরা সংসার। তার উপর সব দিন কাজ হয়না। তার উপর নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে জমি কিনে বাড়ি করার মত কোনো অর্থ সঞ্চিত নেই তাদের।

বর্তমান বর্ষা মৌসুমে উক্ত ঘরের সামনে প্রচণ্ড কাদা-বর্ষায় তার একমাত্র ছোট বাচ্চাটিও প্রতিনিয়ত নানা রোগ-পীড়ায় ভূগছে। অর্থাভাবে ছোট বোনটিকেও স্কুলে পাঠাতে পারেনি। তার উপর আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠছে সে। কোথায় থাকতে দেবে? আর কিভাবেই বা পাত্রস্থ করবেন তাকে? ভবিষ্যতের এমন দুশ্চিন্তায় রাত কাটে তার।

মফিজুলের আক্ষেপ, লোক মারফত জানতে পেরেছেন চলতি মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুর্নবাসনে বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবতার মা শেখ হাসিনা জমি ও ঘর উপহার দিচ্ছেন। ইউএনও স্যারের মাধ্যমে বহু মানুষ ইতোমধ্যে জমি ও ঘর পেয়ে সেখানে বসবাস করছেন, আপন ঠিকানা হয়েছে তাদের। অনেকে জমি ও ঘর পেলেও সেখানে বসবাস করে না, পতিত অবস্থায় পড়ে আছে অনেক ঘর। আবার ঘর থাকতেও ঘর পেয়ে অন্যদের তুলে দিয়েছেন। অন্যদিকে তারা ঘরের অভাবে মানবেতর জীবণ যাপন করছেন। তাদের কোন ঠিকানা নেই। নেই ঘর বানানোর মত এক চিলতে জায়গাও। জন্ম যেন আজন্মই পাপ তাদের কাছে।

একজন অসহায় ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শুধুমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে মুজিববর্ষের ঘর পেতে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।