ফরিদপুরের সালথায় সোহেল খান (৩০) নামে এক যুবককে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে সোহেলের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সোহেলের মা কোহিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, সোহেলের মা কোহিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সোহেলের চাচা সেকেন্দারের সাথে তার ছেলের বউ সালমার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারে অনেক ঝামেলাও হয়েছে। ১০ বছর আগে স্বামী আইয়ুব খানের সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে জানিয়ে কোহিনুর বেগম বলেন, চাচা শ্বশুড়ের সাথে অবৈধ মেলামেশার জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

জানা যায়, নিহত সোহেল খান সালথা উপজেলার শৈলডুবি গ্রামের আইয়ুব খানের বড় সন্তান। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। ২০১৭ সালে সালমা বেগমের (২৩) সাথে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এখন সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে আছে।

সোহেলের স্ত্রী সালমা বেগম (২৫) বলেন, রোববার রাতে খাওয়া শেষে আমি ও সোহেল একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আড়াইটার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি বিছানায় সোহেল নেই। এরপর আলো জালিয়ে দেখি ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো লাশ ঝুলছে। এরপর বটি দিয়ে ওড়না কেটে লাশটি নামাই এবং বাড়ির অন্যদের খবর দেই।

নিহত সোহেলের বোন বিথী আক্তার বলেন, গত দু’বছর ধরে চাচা সেকেন্দারের সাথে আমার ভাবির অবৈধ সম্পর্ক চলছে। রোববার রাত ৮টার দিকেও আমি চাচা ও ভাবিকে একসাথে অনৈতিক অবস্থায় দেখে ফেলি। এরপর ফুফুকে বিষয়টি আমি জানাই।

সোহেলের ফুফু আছিয়া বেগম বলেন, অনেক দিন ধরেই তাদের মধ্যে প্রেম চলছে। গতকালও হাতেনাতে ধরা খাওয়ার পর ভাতিজা আর সহ্য করতে পারে নাই। সোহেল ওর বউকে অনেক বুঝাইছে। বউয়েরে পাউও জড়িয়ে ধরেছিল।

এ ব্যাপারে সেকেন্দার খাঁর বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রীও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সোহেলের বাবা আইয়ুব খান বলেন, আমাদের সমস্যা আমরা থানায় গিয়ে মিটিযে আসছি। আমাদের মধ্যে আর কোনো ঝামেলা নাই।

ছেলে সোহেল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করি নাই।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: আশিকুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাটি তদন্তের জন্য রাতেই আমি ঘটনাস্থলে একজন অফিসারকে পাঠিয়েছিলাম। পরে আমি নিজেও সেখানে গিয়ে আত্মহত্য্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এরপর পরিবারের পক্ষ হতে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।