পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সেই আলোচিত চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারসহ ছয়জনকে একটি দুর্নীতি মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর স্পেশাল জজ আদালতের বিচার রোখসানা পারভীন এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের আইনজীবী আরিফুল হক টিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে পাঠানো অপর আসামিরা হলেন- বাউফলের তৎকালীন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (বর্তমানে বাখেরগঞ্জ) মো: সাইদুর রহমান, ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, আশরাফুল আলম, মেজবাহ উদ্দিন ও ইউপি সচিব মজিবর রহমান।
দুদক আইনজীবী আরিফুল হক টিটু জানান, দুদক চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। ওই মামলায় আসামিরা রোববার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তারা সকলেই ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদারিদ্র্যদের তালিকা তৈরি জন্য গঠিত কনকদিয়া ইউনিয়ন কমিটির সদস্য। চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে ওই কমিটির সভাপতি।
চলতি বছরের ২৫ জুন এক তরুণ ও আষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১৪ বছরের এক কিশোরীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সালিশ বৈঠকে শাহিন হাওলাদার নিজেই মেয়েটিকে বিয়ে করেন। অবশ্য পরের দিনই ওই কিশোরী চেয়ারম্যানকে তালাক দেয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত হন শাহিন হাওলাদার।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৬ সালের ২২ ও২৪ আগস্ট বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ২৩৩ জন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে হতদারিদ্র্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে ৩০ কেজি করে ৬৯৯০ কেজি চালের মূল্যবাবদ দুই লাখ ৫৯ হাজার ৩০৮ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ বাউফল থানায় চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে ১ নম্বর আসামি করে চাল বিতরণ কার্যক্রমের ট্যাগ অফিসার তৎকালীন বাউফলের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সাইদুর রহমানকে ৩ নম্বরসহ ছয়জনকে আসামি করে বাউফল থানায় অভিযোগপত্র দায়ের করেন তৎকালীন জেলা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মানিক লাল দাস। ওইদিনই বাউফল থানা পুলিশ শাহিন হাওলাদার ও ট্যাগ অফিসার সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করেন। পরদিন ২৯ তারিখ তারা আদালত থেকে জামিন পান। ২০১৮ সালের ৩ মে এক লাখ ৬০ হাজার ৭৭০ টাকা ও ওই বছরের ১২ অগাস্ট ২৮ হাজার ৬৩৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন চেয়ারম্যান। পরবর্তীকালে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মানিক লালের চূড়ান্ত রিপোর্টের বলে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ সিনিয়র স্পেশাল জজ জামিন দেন। কিন্তু টাকা জমা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত রিপোর্ট অগ্রাহ্য করে পুনরায় একই বছর ১৯ এপ্রিল পুন:তদন্তের আদেশ দেন আদালত। দুদক পটুয়াখালীর উপ-সহকারী পরিচালক মো: আরিফ হোসেন চলতি বচরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ট্যাগ অফিসার বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি ও চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে ২ নম্বর আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রোববার অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির ধার্য দিনে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার, বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন সময় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে থাকা ছয় আসামি হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত সকলের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসাথে মামলার অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারের জন্য স্পেশাল জজ আদালতের বিচারের জন্য পাঠান।





