পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলার এ পর্যন্ত ১২ ব্যক্তি জীবিত থেকেও নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে তারা এখন মৃত। এ কারণে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি বঞ্চিত হয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা থেকে। এর মধ্যে জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় আটজন, বাউফল উপজেলায় দু’জন, গলাচিপা উপজেলায় একজন ও দুমকি উপজেলায় একজন।
সমাজসেবা অধিদফতর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এসব ব্যক্তিকে ভাতা দিতে (এমআইএস) তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে বিষয়টি নজরে আসে। বর্তমানে এই ১২ জনের ভাতা দেয়া বন্ধ রয়েছে।
বেঁচে থেকেও ভোটার তালিকায় মৃত মির্জাগঞ্জ উপজেলার আবদুল ছত্তার মিয়া। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৮৩ বছর। দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি ও স্ত্রীসহ মোট সাত সদস্যের অভাবের সংসার। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত কোনো জটিলতা ছাড়াই তিনি ভাতা উত্তোলন করেছেন। কিন্তু ২০২০ সালের জুলাই থেকে তার ভাতা বন্ধ রয়েছে। কারণ ভোটার তালিকার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী তিনি মৃত। আবদুল ছত্তার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের মজিদবাড়িয়া গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে।
পটুয়াখালী সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক শীলা রানী দাস বলেন, বিগত বছরগুলোতে ম্যানুয়াললি বয়স্ক ভাতা দেয়া হতো। তবে সরকার এমআইএসের (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) এর মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা দেয়ার কার্যক্রম শুরু করার পর আমরা যখন এসব ভাতাভোগীর তথ্য ডাটাবেজে ইনপুট করছি, তখন নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ বলছে তারা মৃত। সে কারণে তাদের তথ্য দেয়া যাচ্ছে না। তাই আপাতত ভাতা বন্ধ রয়েছে। তবে তারা যাতে দ্রুত নির্বাচন অফিস থেকে তাদের তথ্য হালনাগাদ করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে আমরা যোগাযোগ করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর বলেন, হালনাগাদ ভোটার তালিকায় কতজনের তথ্যে এমন বিভ্রান্তি রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে কোনো উপজেলায় এমনটি ঘটলে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আবেদন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।