মুখের মধ্যে টেটাবিদ্ধ করে স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। সেই ছবি নিয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে গেলেন মাঝবয়সী ফাতেমা বেগম (৫৩)। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীরের আদালতে এই দৃশ্যের অবতারণা হয়।

আদালতে সূত্র জানায়, ফতুল্লার বক্তাবলী আকবরনগর এলাকার ৭ টি হত্যা ও ধর্ষণসহ প্রায় ২২ মামলা আসামি সামেদ আলীর পুত্র ওসমান গণি নারায়ণগঞ্জের নারী সাংবাদিক মনি ইসলামকে মারধরের ঘটনায় জামিন আবেদন করেন। ওই সময় আদালতে ফাতেমা বেগম নামে ওই নারী আদালতে বিচারকের উদ্দেশ্যে হাতে স্বামী জয়নাল মোল্লার মুখে টেটাবিদ্ধ ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্যার এই আসামিকে ছাড়বেন না। এই যে দেখেন সে আমার স্বামীকে মুখের মধ্যে টেটাবিদ্ধ করে হত্যা করেছে। তাকে নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি। সেই সময় আদালত বিচারক মহিলাকে জিজ্ঞসা করেন, ‘আপনি কার কথা বলছেন’।
মহিলা প্রতিত্তুরে বলে, ‘ওই যে আসামি ওসমান গণি। পরে বিচারক দুপুরের পর দূর্ধষ খুনী ওসমান গণির জামিন শুনানী আদেশ দিবেন বলে জানান।’

এ বিষয়ে আদালতে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি হাছান ফৌরদোস জুয়েল জানান, ওসমান গণি দূর্র্ধষ আসামি। তার বিরুদ্ধে শুধু হত্যা মামলা রয়েছে ৭ টি। আদালতে হত্যার মামলা বাদী এক নারী বিচারককে তার স্বামী হত্যা ছবি দেখিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন আদালতের কোর্ট পরিদর্শক আসাদুর রহমান। তিনি সাংবাদিক মনি ইসলামকে ২৩ অক্টোবর ফতুল্লার আকবর নগর এলাকায় ওসমান গনি ও তার লোকজন মারধর করে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে ২৭ অক্টোর ওসমান গনিতে র‌্যাব গ্রেফতার করে। এর পর থেকে কয়েকবার ওসমান গনির জামিন আবেদন করা হয়। আদালত শুনানী শেষে তার জামিন না মঞ্জুর করেছে। তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা রয়েছে এর মধ্যে ৭টি হত্যা মামলা।