জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৩নং ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে ভোট কারচুপির অভিযোগে রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষোভ করেছে পরাজিত প্রার্থীর লোকজন।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দোলভিটি বাজারের কালিতলা মোড়ে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একইদিন বিভিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে রাস্তা অবরোধের কারণে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী আশিকুর রহমান লাল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
জানা গেছে, রোববার ইউপি নির্বাচনে ৬নং ওয়ার্ডে ছয় জন প্রার্থী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে আশিকুর রহমান লাল মিয়া (ভ্যানগাড়ি) ও মিলটন মিয়া (ফুটবল) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ভোটগ্রহণ শেষে মিলটন মিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসার। এতে লাল মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার সকালে তারা ধনবাড়ি-ডোয়াইল-বয়ড়া সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ, দোলভিটি কালিতলা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল, অগ্নিসংযোগ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আশিকুর রহমান লাল মিয়া, আকলিমা আক্তার, মনোয়ারা
বেগম, স্বপ্না আক্তার প্রমুখ।
এদিকে বেলট পেপার, বাক্স ও ভোটকেন্দ্রে হামলার অপরাধে রোববার দুপুরে সেঙ্গুয়া কেন্দ্র থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আসরাফ নামে একজনকে গ্রেফতার করে। সোমবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে জেলা কারাগারে
প্রেরণ করেছে বলে থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার কয়েকটি স্থানে ইউপি সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কান্দারপাড়া ও একুশের মোড় এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মজিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। রাস্তা অবরোধ করে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করায় পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী আশিকুর রহমান লাল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।





