রাজধানীর কাপ্তানবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মোহাম্মদ ইয়াসিনের (২১) বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের সুধী গ্রামের দিনমজুর মো: জঙ্গু মিয়ার ছেলে।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইয়াসিনের লাশ সুধী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়- স্বজনের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। সচ্ছলতার খোঁজে ঢাকা গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ছেলে বাড়ি ফিরবে, তা ভাবতেই পারেননি বাবা জঙ্গু মিয়া। ছেলের শোকে বার বার মূর্চা যাচ্ছিলেন মা নাজমা আক্তার। ছোট তিন ভাইবোনের কান্না আর আহাজারি যেন থামছেই না।

স্বজনেরা জানান, ইয়াসিনের বাবা জঙ্গু মিয়া একজন দিনমজুর। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় ইয়াসিন ৮ থেকে ৯ বছর বয়সেই অভাবের তাড়নায় ঢাকামুখী হয়। ইয়াসিনের মা নাজমা আক্তার বিভিন্ন বাড়িঘরে ছোটখাটো কাজ করেন। এরপরও অভাব যেন পরিবারটির নিত্যসঙ্গী। সংসারের এমন অবস্থায় কিছুটা বেশি বেতনে মাত্র দুই মাস আগে সে কর্মচারী হিসেবে কাজ নেয় কাপ্তানবাজারের ভূঁইয়া স্টোরে। সেখানেই শনিবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ঘটে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় অর্ধশতাধিক দোকান। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয় পুড়ে মারা যাওয়া ইয়াসিনের লাশ।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইয়াসিনের লাশ বাড়িতে আনার পর গুনধর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সায়েম রাসেল ইউপি সদস্যদের সাথে নিয়ে তার বাড়িতে যান। সেখানে তিনি পরিবার ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার পাশাপাশি পরিবারটিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।