অসময়ের বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানি বেশি দিন জমে থাকলে ধান গাছের গোড়া পচে যাবে। দ্রুত পানি অপসারণ না হলে ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হবে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলার সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে এক লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত রোববার পর্যন্ত চাষ হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর। বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বোরো রোপণের উপযুক্ত সময়। কৃষকরা এখন জমি তৈরি ও রোপণে ব্যস্তসময় কাটাচ্ছেন। গত শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থামে শনিবার রাতে। বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে নিচু জমির বোরো ধান তলিয়ে যায়। সরিষা, আলুসহ বিভিন্ন রবি শস্যও নষ্ট হয়ে যায়।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের কিশামত ফলিয়া গ্রামের কৃষক রাকিব মিয়া জানান, বৃষ্টির পানিতে তার তিন বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশি দিন পানি জমে থাকলে ধানগাছের গোড়া পচে নষ্ট হবে। তাই দ্রুত পানি অপসারণ না হলে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হবে। একই উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের চাপাদহ গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে একবিঘা জমিতে বোরো রোপণ করেন। এতে চারা, শ্রমিকসহ খরচ হয় তিন হাজার টাকা। কিন্তু একদিনের বৃষ্টিতে সেই জমি হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে।
কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাপাদহ গ্রামের প্রায় ৩০ একর জমি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগকে জানানো হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে বোরো ধান, সরিষা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জরিপ না করে এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, সরিষা, আলুর কিছুটা ক্ষতি হলেও বোরো ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।





