যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের আলভিয়া বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশী জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র অতিরিক্ত ক্যাপ্টেন মনসুরুল আমিন খান (৩৬)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের নারকেলতলা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বিআরডিসি কর্মকর্তা নুরুল আমিন খান ওরফে সেলিম খানের ছেলে। মনসুরুল আলম খান এলাকায় গিনি নামেই পরিচিত।
তার বাবা সেলিম খান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কথা বলেছেন গিনি। জানিয়েছেন, ভালো আছেন। সন্ধ্যার দিকে ইউক্রেনের আলভিয়া বন্দরে তাদের নামানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই আছেন।
সেলিম খান জানান, ছেলের জন্য বাড়ির সবাই খুব চিন্তিত। চরম উদ্বিগ্নতার মধ্যে আমাদের দিন কাটছে। ওর মা মর্জিনা খানম ও স্ত্রী আশরুকা সুলতানা সারা দিন কান্নাকাটি করছেন। কারো সামনে আসতে চাচ্ছেন না। তারা একেবারে ভেঙে পড়েছেন। তিন ছেলের জনক মনসুরুল আলম খান। ফাহিমি ও ফারহান (১০) যমজ, তারা ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। আর ছোট ছেলে ফারদিনের বয়স তিন বছর।
সেলিম খান বলেন, গিনি ১৯৯৯ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন, ২০০১ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০০২ সালে শিপে যোগ দেন। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর থেকে কোর্স সম্পন্ন করে ২০০৬ সালে জাহাজের ক্যাপ্টেন পদে চাকরি শুরু করে। সবশেষ তিন মাস আগে বাড়িতে এসেছিল গিনি। জাহাজে গেলে ৬-৭ মাস পরপর বাড়িতে আসেন। ইউক্রেনে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়বে, এটি কেউ ধারণা করেনি। জাহাজে রকেট হামলার পর বৃহস্পতিবার প্রথম তার সাথে কথা হয়েছে। সেখানে তাদের খাবারের একটু সমস্যা হচ্ছে জানায় সে। প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছেন জাহাজে আটকা পড়া বাংলাদেশীরা। নেটওয়ার্ক ও ফোনে চার্জ না থাকায় খুব বেশি যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে জানিয়ে সেলিম খান বলেন, শিপিং অফিস থেকে যোগাযোগ করে বলেছে, তারা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন আমাদেরকে দুশ্চিন্তা না করতে বলেছেন। তাদের সরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ইউক্রেনিরা মাইন বসিয়ে রাখায় বন্দর থেকে জাহাজটি বের হতে পারেনি।
ক্যাপ্টেন মনসুরুল আলম খানের বোন সাবরিনা খান মৈত্রী বলেন, দূতাবাসের মাধ্যমে তারা যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন। আশা করছেন তার ভাই নিরাপদে বাড়িতে ফিরবেন। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে ভাইয়া জানিয়েছেন, তারা ইউক্রেনের বাংকারে নেমেছেন। এখনো পুরোপুরি নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। পোল্যান্ড সীমানায় পৌঁছাতে পারলে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যাবে। পোল্যান্ড এখান থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। ফলে দ্রুত সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বলেন, বিষয়টি শুনেছি জাহাজের ক্যাপ্টেন একজনের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন কোনো মেসেজ এখনো আমরা পাইনি।