চাদঁপুরের হাইমচরে পাবজি ফ্রি ফায়ারে আসক্ত অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র জনি গাজি (১৫) আত্মহত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে হাইমচরের চরভৈরবী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়াবগুলা গ্রামের নিজ বাড়ির নিকটে একটি বাগানে গাছের সাথে ওড়না পেছিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। নিহত জনি গাজি ওই গ্রামের দেলোয়ার গাজির ছেলে।

এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, হাইমচর চরভৈরবী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়াবগুলা গ্রামের দেলোয়ার গাজির মেঝো ছেলে জনি গাজি সকালে ফজর নামাজ পড়তে স্থানীয় মসজিদে যান। নামাজ শেষে বাড়িতে এসে কিছুক্ষণ পরই ঘর থেকে চলে যায়। এর দেড় ঘণ্টা পর পাশের বাড়ির এক মহিলার ডাক চিৎকার শুনে বাগানে গিয়ে দেখেন কিশোর জনি গলায় ওড়না পেছিয়ে ফাঁস দিয়ে গাছের সাথে ঝুলে আছেন।

খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃত কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জনি গাজি মোবাইলে আসক্ত ছিল। ফ্রি ফায়ার গেমস্ খেলতে খেলতে তার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। মোবোইলে পাবজী গেমস্ খেলার নেশায় ছেলেটি ঠিকমত স্কুলে যেত না। তাই তার বাবা তাকে গেমস্ খেলতে নিষেধ করেন। হয়তো রাগে ক্ষোভে সে আত্মহত্যা করেছে।

নিহতের বাবা দেলোয়ার গাজি জানান, প্রতিদিনের মতো গতকালকেও আমি নদীতে মাছ ধরতে যাই। সকালে আমাকে ফোন করে বলে বাড়িতে আসতে। এসে দেখি আমার ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে। কেন আত্মহত্যা করল আমার কিছু জানা নেই।

নিহতের মা’ জলেখা বেগম বলেন, আমার ছেলের সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। সে মাঝে মধ্যে স্কুলে যেত। নদীতেও মাছ ধরতো। রাতে ঘুমানোর সময় আমাকে বললো মা’ আমাকে ফজরের নামাজের সময় উঠিয়ে দিয়েন। আমি নামাজ পড়ব। সে নিজে নিজে ভোরে নামাজ পড়তে যায়। নামাজ পড়ে এসে আবার বাইরে যায়। বাইরে গিয়ে বাবা আর ঘরে আসে না। লোকজনের চিৎকার শুনে বাগানে গিয়ে দেখি বাবা আমার গাছের সাথে ঝুলে আছে।

তিনি বলেন, আমার ছেলের অনেক রাগ ছিল। কোনো কিছু বললেই রেগে যেত। কথা একেবারেই কম বলতো। মাথায়ও সমস্যা থাকায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন জানান, গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা যাচ্ছে বাবা’ মায়ের শাসনের ফলে রাগান্বিত হয়ে ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে।