সড়কে পাগলের বেশে মোটরসাইকেল থামানো হতো। এর পর সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা ধারাল অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত চালকের ওপর। এমনই অভিনব ছিনতাই ঘটনায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী রায়হান প্রামানিক (২৭) বগুড়া জেলার শাহাজাদপুর থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের খোরশেদ প্রামানিকের ছেলে। তিনি আশুলিয়া জামগড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন। গ্রেফতারকৃত অপর ছিনতাইকারী হাসমত আলী ওরফে আবুল হাশেম (৩৪) সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের ঘটিয়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে।
পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান সোমবার সাংবাদিকদের জানান, গত বছর ২৩ নভেম্বর রাত দেড়টায় ছিনতাইকারী চক্রটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়কের কালিয়াকৈর থানাধীন সফিপুর এলাকায় যমুনা গেট-সংলগ্ন এলাকায় মোটর সাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয়। ওই দিন মামলার বাদি ফারুক হোসেন ডিউটি শেষে মৌচাক নিউ লাইন ক্লথিং লিঃ হতে নিজের ব্যবহৃত পালসার ১৬০ সিসি মোটর সাইকেল (ঢাকা-মেট্রো-ল-২৬-৪৭৩২) যোগে চক্রবর্তী বেক্সিমকোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি রাত দেড়টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শফিপুর বাজারের পূর্ব পাশে যমুনা স্পিনিং মিল এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এক পাগল মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়ালে তিনি সাথে সাথে থেমে যান। এসময় মুহূর্তের মধ্যে দুই-তিনজন দুষ্কৃতিকারী ধারালো রাম দা, ছুরি, ডেগার ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেল আরোহীকে ঘেরাও করে ফেলে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করলে তিনি মোটরসাইকেল হতে মাটিতে পড়ে যান। এসময় তাকে এলোপাথারি মারপিট করে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চন্দ্রার দিকে পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় ফারুক হোসেন কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি কালিয়াকৈর থানা পুলিশ প্রায় ১৫ দিন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা প্রায় দু'মাস তদন্ত করে কোনো রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় অবশেষে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই গাজীপুর। পিবিআই তদন্তকারী অফিসার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকালী চক্রের সদস্য। এরা বিভিন্ন সময় অভিনব কৌশলে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে থাকে। ঘটনার রাতে এদের একজন সহযোগী হাতে কাঠের ডাসা নিয়ে পাগলের বেশে অভিনয় করে মোটর সাইকেলের সামনে এসে গতিরোধ করে। এসময় অন্য সহযোগীরা মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।





