বাগেরহাটে চিতলমারীতে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা:কে নিয়ে ফেসবুকে কলেজছাত্রীর অবমাননাকর পোস্ট এবং থানায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) শামিম হাওলাদার বাদি হয়ে ৫৯ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আরো ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা:কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি এবং অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার ঘটনায় শেরেবাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো: রুবেল মুন্সী বাদি হয়ে কলেজছাত্রী রনিত বালা রনিকে আসামি করে অপর মামলাটি করেছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চিতলমারী থানার পরিদর্শক (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, চিতলমারী উপজেলার চরডাকাতিয়া গ্রামের রমনি বালার মেয়ে শেরেবাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী রনিত বালা রনি (১৮) তার ‘রনিত বালা রনি’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা:কে নিয়ে কটূক্তি ও অবমাননা করে পোস্ট দেয়। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রোববার রাতে চিতলমারী পুলিশ রনিত বালা রনিকে তার ব্যবহৃত মোবাইলসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কলেজছাত্রী রনি জানায় তার আইডি হ্যাক করে অন্য কেউ এ ধরনের পোস্ট দিয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উত্তেজিত জনতা চিতলমারী থানার সামনে জড়ো হয়ে কলেজছাত্রী রনির বিচারের দাবি জানাতে থাকে। এ সময় শেরেবাংলা কলেজ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল থানার সামনে পৌঁছলে উত্তেজিত জনতা চিতলমারী থানা ভবনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে তারা থানা কম্পাউন্ডে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ও থানার পিকআপ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ি এবং ছয়-সাতটি মোটরসাইকেলসহ থানার জানালার কাঁচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।
উত্তেজিত জনতার হামলায় ওসিসহ ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশ সরকারি সম্পদ রক্ষা ও উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ২৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার পরিদর্শক (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সব সময়ই সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। ঘটনার শুরু থেকে আমি বারবার স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনো সহযোগিতা করেননি। তারা ঘটনার গুরুত্ব দিলে এত বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটত না।’
চিতলমারী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা: মামুন হাসান জানান, সোমবার দুপুরের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে হাসপাতালে এবং থানায় গিয়ে আহত ১২ জন পুলিশ সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।