সাত দিনের মধ্যে টাঙ্গাইলের স্কুলছাত্র শিহাবের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে নেমে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তারা। এ সময় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয় শিক্ষার্থীরা।

সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে তারা।

এ সময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্কুলের অধ্যক্ষসহ নয়জন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, আত্মহত্যা নয় শিহাবকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দোষীদের বিচারের দাবিতে ফুঁসে ওঠে সৃষ্টি স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেয় অন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

স্বারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক ড. মো: আতাউল গণি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক তাকে দ্রুত খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মুহাম্মদ কায়সার বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যেই হোক ছাড় দেয়া হবে না।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় শহরের বিশ্বাস বেতকা সুপারী বাগান এলাকায় সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে শিহাবের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান শিক্ষকরা। তখন শিক্ষকরা একে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে রোববার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়, গামছা জাতীয় কোনো কিছু পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে।