নাটোরের নলডাঙ্গার আলোচিত শাহাদত হত্যা মামলার একমাত্র আসামি যাজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শাহজাহান আলী ওরুফে সোহরাব হোসেন স্বপনকে ৩০ বছর পর গ্রেফতার করেছে র্যাব। ভোরে তাকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব নাটোর ক্যাম্পের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে নাটোর র্যাব ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান র্যাব-৫ এর উপঅধিনায়ক মেজর হাসান মাহমুদ। র্যাব নাটোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফরহাদ হোসেন জানান, ১৯৯২ সালের ১৭ মে জেলার নলডাঙ্গার বারনই নদীতে গোসল করার সময় শাহাদতকে পূর্ববিরোধের জেরে উপর্যুপুরী ছুরিকাঘাত করে শাহজাহান। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহাদত তৎকালীন নাটোর সদর বর্তমানে নলডাঙ্গা উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের মৃত সমজানের ছেলে এবং শাহজাহান একই উপজেলার পশ্চিম সোনাপাতিল গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সেকেন্দার আলী বাদি হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করে। এ মামলায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ করে ১৯৯৫ সালের ২৯ মে আদালত অভিযুক্ত শাহজাহান আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় শাহজাহান। এরপর সে পরিচয় গোপন করে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী পৌর শহরের পূর্ব কাটাবাড়ী এলাকায় ‘সোহরাব হোসেন স্বপন’ নামে বসবাস করে আসছিল। এ ছাড়া তার আদি নিবাস রংপুর বলে জানতো। সে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী এলাকায় বিভিন্ন কাজকর্ম করলেও গত ১০ বছর ধরে গাজীপুরে গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করছে। এ ছাড়া দিনাজপুর ফুলবাড়ীতে অবস্থানকালে সে তার নিজ নাম শাহজাহানের পরিবর্তে ‘সোহরাব হোসেন স্বপন’ নামে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করে। সে দিনাজপুর ও ঢাকায় অবস্থান করলেও গোপনে নিজ এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।





