ভোলায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিমের কবর জিয়ারত এবং পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন, ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আলহাজ নাজিম উদ্দিন আলম।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ছিলেন। সেখান থেকে ৪ তারিখ রাতে দেশে ফিরে সরাসরি ভোলায় চলে আসনে। ভোলায় এসে সকালে নাজিম উদ্দিন আলম ও চরফ্যাশন বিএনপির নেতাদের নিয়ে প্রথমে ৩১ জুলাই পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত স্বেচ্ছাসেবক আবদুর রহিমের গ্রামের বাড়ি উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে যান। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নিহত আবদুর রহিমের কবর জিয়ারত করেন। তারপর আবদুর রহিমের বাসায় গিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় নাজিম উদ্দিন আলম নিহত আবদুর রহিমের স্ত্রীর হাতে নগদ সহায়তা তুলে দেন।
বিকেলে সেখান থেকে এসে নাজিম উদ্দিন আলম ও অন্য নেতারা নিহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের কবর জিয়ারত করেন। এরপর নুরে আলমের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজ খবর নেন।
এ সময় নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সঙ্কট, জ্বালানি সঙ্কট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আজ দুটি তাজাপ্রাণ পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণে শহীদ হয়েছে। তারা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য এ আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বিনা কারণে, বিনা উসকানিতে পুলিশ বাহিনী কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মিছিলে গুলিবর্ষণ করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিমকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলেছে। শতাধিক নেতাকর্মী পুলিশের এ হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই সরকার শান্তিপ্রিয় ভোলাকে রক্তে রঞ্জিত করেছে। ভোলার মাটিকে রক্তাক্ত করেছে।
তিনি বলেন, এ সরকারের অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গেলে মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলে। আজ ভোলার এ ঘটনাই তার প্রমাণ। তিনি বলেন, নুরে আলম ও আবদুর রহিম মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে আজ জীবন দিয়েছে। আমরা তাদের এই আত্মত্যাগ কখনো ভুলতে পারব না। শহীদ নুরে আলম ও আবদুর রহিমের এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেবো। তাদের রক্ত বৃথা যেতে দিব না। তিনি আরো বলেন, এই স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, ভোটারবিহীন অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারকে দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে পতন ঘটিয়ে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনব। শহীদ নুরে আলম ও আবদুর রহিমের শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আ ন ম আমিরুল ইসলাম মিন্টিজ, সহসভাপতি জাকির হোসেন বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর হোসেন, চরফ্যাশন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইয়রুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা যুবদল সভাপতি আশরাফুল ইসলাম দিপু, উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি আবদুল কালাম আজাদ, উপজেলা মৎস্যজীবী দল সভাপতি সোহাগ খান, উপজেলা যুবদল নেতা ফজলে রাব্বী প্রমুখ।





