বিশ্ব রাজনীতির একটি বড় অংশ জুড়েই থাকে জ্বালানি তেলের বিষয়। সেই ভাবনা থেকেই জ্বালানি তেল উৎপাদনে মাঠে নেমে পড়েন আব্দুর রহমান বায়জীদ। ভাবতে অবাক লাগলেও পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক থেকেই জ্বালানি তেল তৈরি করছেন এই কলেজছাত্র। শোধনও করছেন নিজের প্রযুক্তিতে।

দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের লোহাগড়া গ্রামের কলেজছাত্র বায়জীদ দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করেন। তিনি একই গ্রামের বাহাউদ্দীনের ছেলে। তার উদ্ভাবনী এ বিষয়টি রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছে এলাকাজুড়ে।

গত সপ্তাহ থেকে জ্বালানি তেল তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল জ্বালিয়ে তৈরি করছেন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল। নিজের মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন নিজের তৈরি পেট্রোল দিয়েই। পড়াশোনার ফাঁকে জ্বালানি তেল তৈরির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তিনি। বড় পরিসরে তেল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান বায়জীদ।

তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হই। সময় পেলেই পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল জোগাড় করি।’

উৎপাদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পলিথিন হলে এক কেজি জ্বালিয়ে সাত শ’ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। এ তেল বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করেও লাভ থাকবে। আমাকে সহযোগিতা দিলে এ অঞ্চলের মানুষের সব ধরনের জ্বালানি তেলের চাহিদা মিটিয়ে দিতে পারি।’

তেল উৎপাদনের বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে অবিশ্বাস্য ও বিস্ময়কর। তাই উৎসুক মানুষের ভিড় জমে থাকে বায়জীদের বাড়িতে।

তারা জানান, বায়জীদের এ কাজ দেখে আগে মনে হয়েছিল পাগলামি। কিন্তু এখন দেখেন সে এ কাজে সফল হয়েছেন।

বায়জীদের এ সফলতায় বেজায় খুশি তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা। বায়জীদের স্কুলপড়ুয়া ভাই জানান, আমার বড় ভাই প্রথম যখন এটি করেন তখন মনে হয়েছিল তিনি পাগলামি করছেন। এখন দেখছি তিনি বড় সফলতা পেয়েছেন।

বায়জীদের বাবা বাহাউদ্দীন জানান, আমার ছেলে এত বড় কাজ করবে আমি কখনো চিন্তা করতে পারিনি। প্রথমে যখন তেল তৈরী করার জন্য চেষ্টা করে তখন আমি সাহায্য করার বদলে রাগারাগি করছি। এখন ছেলের তেল দিয়ে যখন গাড়ি চালাচ্ছি তখন খুব ভালো লাগছে। আমি সরকারের কাছে আবেদন করি সরকারিভাবে যদি সহযোগিতা পাই তাহলে এটা বাণিজ্যিকভাবে করতে পারব।