ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র মীর মাহবুব হোসেন সুমন (২৫) অপহরণের সাত দিনেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, এ বিষয়ে থানায় জিডি নিচ্ছে না পুলিশ।
মাহবুব উপজেলার করনা মীরপাড়া গ্রামের হাসান আলীর ছেলে ও নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র।
মাহবুবের পরিবার জনায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে মাহবুব বাড়ি থেকে তার মাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য মোটরসাইকেলে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলার সাগুনী ব্রিজের পাশে বোচাগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝামাঝি জায়গায় পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাদের পথ রোধ করে। তারা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চেয়ে সুমনকে রাস্তার সাইডে নিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে সাত দিন পেরিয়ে গেলেও মাহবুবের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার হতাশ ও উদ্বিগ্নের মধ্যে দিন পার করছেন।
পরিবারের অভিযোগ, পীরগঞ্জ থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ বোচাগঞ্জ আর বোচাগঞ্জ থানায় জিডি করতে গেলে তারা পীরগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে পরিবারকে হেনস্তা করছে। এতে বিপাকে পড়েছে পরিবারটি।
মাহবুবের মা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘আমি ও আমার ছেলে মোটরসাইকেলে দিনাজপুরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পথে সাগুনী ব্রিজ অতিক্রম করে একটু সামনে গেলেই আমাদের পথরোধ করে পাঁচজন লোক। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার ছেলেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যান তারা। সাত দিন পার হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি।’
বাবা মীর হাসান আলী বলেন, ‘এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানায় জিডি করতে গেলে সেখানকার থানা পুলিশ দেখিয়ে দেয় বোচাগঞ্জ থানা আর বোচাগঞ্জ থানায় গেলে তারা দেখিয়ে দেয় পীরগঞ্জ থানা। কিন্তু দুই থানার এক থানায়ও জিডি জমা নিচ্ছে না। আমরা এখন কোথায় যাবো কি করবো?’
জিডি না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ছেলেটির পরিবার থানায় এসেছিল। যেহেতু ঘটনাটি বোচাগঞ্জ থানা এরিয়ায় ঘটেছে সেহেতু সেই থানায় তাদের জিডি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
এছাড়া মাহবুব খোঁজ বা সন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
অন্যদিকে মাহবুব অপহরণের বিষয়ে থানায় জিডি না নেয়ার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, ‘আমরা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) ও মামলা নেয়ার জন্যই আছি। সুমনের বিষয়ে থানায় এক ভদ্রলোক এসে বলেছিল যে, তার ছেলে নিখোঁজ। তার কথা অনুযায়ী আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শ করি। কিন্তু ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সে জায়গাটি আমার থানার এরিয়ায় না।’
দিনাজপুরের কাহারোল ও বোচাগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রওশন আলী বলেন, ‘যেহেতু তাকে অপহরণ করা হয়েছে এক্ষেত্রে থানায় অপহরণ মামলা হবে। আর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভিকটিম নিখোঁজ বা অপহরণ হয়েছে সেক্ষেত্রে ভিকটিমের নিজ থানায় অর্থাৎ ভিকটিম যে এলাকার বাসিন্দা সে এলাকার থানায় মিসিং জিডি বা অপহরণ মামলা করতে হবে।’





