মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত সেনা সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের লাশ নীলফামারীর ডিমলায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টায় দাফন শেষে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
নিহত সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত ছিলেন। সেখানে কর্তব্যরত অবস্থায় বোমা বিস্ফোরণে তিনি সহ আরো দু'জন নিহত হন।
জাহাঙ্গীর আলম নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে। জাহাঙ্গীর পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন।
এর আগে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দুপুর ১১টা ১৫ মিনিটে ডিমলায় বিন্নারাণী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে।
এ সময় হেলিকপ্টারে লাশের সাথে আসেন জাহাঙ্গীর যে ক্যাম্পে নিয়োজিত ছিলেন সে ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ, ক্যাপ্টেন তানজিদ, জেসিও আকতার, সার্জেন্ট মাহফুজার, সার্জেন্ট মাসুদসহ অন্যরা।
লাশ তার নিজ বাড়ী দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষসহ নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এরপর দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিম সেক্টরে বোয়ার এলাকায় মোতায়েন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ান (ব্যানব্যাট-৮) ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন। দূর্গম এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প কুই হতে পরিচালিত যান্ত্রিক টহলের একটি দল মেজর আশরাফের নেতৃত্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কাইতা এলাকায় টহলে যায়। ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ফেরার পথে টহল কমান্ডার মেজর আশরাফকে বহনকারী প্রথম গাড়িটি মাটিতে পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে গাড়িটি প্রায় ১৫ ফিট দূরত্বে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় সৈনিক জাহাঙ্গীরসহ তার অপর দুই সাথী সৈনিক শরিফ ও সৈনিক জসিম নিহত হয়।





