চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দামুড়হুদা ও দর্শনা এলাকায় স্বর্ণ চোরাকারবারিদের তৎপরতা বেড়েছে। এক দিনে কাস্টমসের গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজিবি পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণসহ আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্রের দুই ভারতীয় ও এক বাংলাদেশী স্বর্ণ চোরাকারবারিকে আটক করেছে।
জানা গেছে, গত ৯ মাসে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির ব্যাটালিয়ন আট কোটি ২০ লাখ টাকার স্বর্ণ জব্দ করেছে। এছাড়া দামুড়হুদা ও দর্শনা থানায় নয়টি মামলায় নয়জনকে স্বর্ণ বহনকারী হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এতে করে পরিবহনকারীরা ধরা পড়লেও ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে প্রকৃত কারবারি আর চক্রের মূলহোতারা।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই দর্শনা ও দামুড়হুদা সীমান্তবর্তী এলাকাকে স্বর্ণসহ অন্যান্য চোরাচালানের একটি অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি বেনাপোল শুল্ক ও গোয়েন্দা সংস্থার সহকারী পরিচালক মো: মনিরুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে রাজস্ব কর্মকর্তা আ: রহিমের নেতৃত্বে একটি টিম দর্শনা চেকপোস্ট থেকে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য ভারতের কলকাতা শহরের অনুপ কুমার গুপ্ত (৪৫) ও রাজেস কুমার (৪২) নামে দুজনকে আটক করে। এসময় তাদের জুতার ভেতর থেকে ৪৫ লাখ টাকার ১১টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। একই দিনে যশোর বিজিবি-৪৯ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি টহলদল দামুড়হুদার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে থেকে এক কোটি টাকার স্বর্ণ ও মোটরসাইকেলসহ চুয়াডাঙ্গা বেলগাছি গ্রামের আরিফ বিল্লালের ছেলে মারফ বিল্লাহকে (২৮) আটক করে। তারা দিন হাজিরায় ও বহনকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দর্শনা ও দামুড়হুদা থানা পুলিশ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ২০২০ সালে দর্শনা থানা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এ পর্যন্ত আটটি স্বর্ণের মামলায় আটজনকে আটক দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে চলতি বছরে দামুড়হুদা থানায় একটি স্বর্ণের মামলায় একজনকে বহনকারী হিসেবে আটক দেখানো হয়েছে। এসব অভিযানে যাদেরই আটক করা হয়েছে তারা কেউ মূল চক্রের সদস্য নয়, তারা কেবল পরিবহনের কাজ করে থাকেন বলে জানায় পুলিশ।
এসব চোরাচালানের মূল চক্রে সদস্যদের কেন আইনের আওতায় আনা যায় না বা নাম প্রকাশ পায় না এমন প্রশ্নের জবাবে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: আবু তারেক বলেন বেশিরভাগ স্বর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির হাতে ধরা পড়ে। ওইসব মামলায় বিজিবি যেভাবে এজাহার দেয় সেভাবে তদন্ত করা হয়। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাছাড়া যারা মালামালসহ আটক হয় তারা খুবই চতুর, কিছুই বলতেও চায় না।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ মো: ইশতিয়াক পিএসসি ‘নয়া দিগন্ত’কে জানান, তিনি চলতি বছরের ২২ মার্চ যোগদান করার পর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও দামুড়হুদা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি ১৯১.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মুল্য আট কোটি ২০ লাখ ২৭ হাজার ১৫০ টাকা।
তিনি জানান, স্বর্ণ চোরাকারবারি রোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে। চোরাকারবারিরা যত কৌশল অবলম্বন করুক না কেন ধরা তাদের পড়তেই হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

