কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় এ বছরের মতো শেষ হতে চলেছে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন মৌসুম। চিংড়ি প্রকল্পগুলোতে এখন চলছে চাষিদের শেষ মুহূর্তের মাছ আহরণ। সেই সাথে আসন্ন লবণ চাষের মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মাঠ প্রস্তুতির কাজে। এ জন্য পানি বের করে দিয়ে শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও, উখিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় চিংড়িঘেরে রাতদিন এখন মাছ আহরণের কাজ চলছে।
ঈদগাঁও উপজেলার গোমাতলীর ঘের মালিক ও উদ্যোক্তা হান্নান মিয়া জানান, লবণ উৎপাদন মৌসুম সমাগত। তাই, লবণ চাষের জন্য ঘেরের পানি বের করে দিয়ে মাঠ শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। ঘের মৌসুমের সমাপনী পর্বে যাবতীয় মাছ ধরে ফেলছেন মালিক-শ্রমিকরা। প্রকল্পের অপেক্ষাকৃত গভীর (কুম) এলাকায় পাম্পমেশিন বসিয়ে পানি তুলে ফেলা হচ্ছে।
মহেশখালী সোনাদিয়ার চিংড়ি চাষি আমির খান বলেন, প্রকল্প থেকে প্রধান ফসল বাগদা চিংড়ি ছাড়াও বাটা, গুইল্যা, দাতিনা, ধুম, বিছাতারা, কামিলা, ভেটকি ও বাইলা মাছসহ রকমারি প্রজাতির মাছ আহরণ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ছাড়াও বাগদা, লইল্যা, চাগা, ও চামা ইছাসহ রকমারি প্রজাতির চিংড়িও উঠে আসছে জালে।


এখন মাছ সহজপ্রাপ্য হওয়ায় শখ করে অনেকেই পরিচিত প্রজেক্ট মালিকদের ঘেরে যাচ্ছেন মাছ শিকার করতে। চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর চিংড়িঘের মালিক কবির বলেন, পরিচিত, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই শখ করে মাছ ধরতে আসছেন। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে। বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকায় মাছের দামও কমে গেছে। অনেক ক্রেতা সস্তায় মাছ কিনে বাড়িতে শুকিয়ে শুঁটকি করে রাখছেন।
প্রজেক্ট মালিকরা জানান, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চিংড়ি ঘেরগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে ফেলা হবে। শুরু হবে লবণ চাষের প্রস্তুতি। প্রজেক্টে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ তখন বাজারে পাওয়া যাবে না। আগামী সাত-আট মাস পরে ঘের মৌসুম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দু®প্রাপ্যই থাকবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদরুজ্জামান দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার ৪৪ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়।