ঘন কুয়াশা আর উত্তরের গাড়ো পাহাড়ের হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া অসহায় হতদরিদ্র ও ফুটপাতের ছিন্নমূল মানুষ।

মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলার কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা ছিল আকাশ। শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গরীব, অসহায় হতদরিদ্র ও ফুটপাতের ছিন্নমূলের মানুষের শীত নিবারণের প্রয়োজন।

জানা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার ইউনুস অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়াঁন। তিনি রাতের আঁধারে উপজেলার পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে খুঁজে ফুটপাতের ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছেন।

আরো জানা যায়, ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ সোমেশ্বীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রতিবন্ধীদের মাঝে প্রধামন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার ইউনুসের সভাপতিত্বে এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডিএম শহীদুল ইসলাম। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডিএম শহীদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার ইউনুস প্রতিবন্ধীদের হাতে শীতবস্ত্র কম্বল তুলে দেন। অপরদিকে সন্ধ্যায় উপজেলার ভেলুয়া এতিমখানা ও পৌরশহরের তাতিহাটি এতিমখানায় এতিম শিশুদের শীত নিবারনের জন্য শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেন।

শীতবস্ত্র পেয়ে ছিন্নমূল, অসহায় হতদরিদ্র মানুষ ও এতিমখানার এতিমরা মহাখুশি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন উদ্যোগ শ্রীবরদীর সচেতন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। পৌরশহরের বিভিন্ন জায়গায় দ্বারে দ্বারে গিয়ে কম্বল বিতরণ করায় সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার ইউনুস।

শীতবস্ত্র বিতরণের ব‍্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার ইউনুসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র কম্বল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন অসহায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষদের কষ্টের কথা ভেবে রাতে ঘুরে ঘুরে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আমাদের এই ছোট উদ্যোগ তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিবে।