স্ত্রী ডা. হৃদিতা সরকারের করা যৌতুক এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মামলায় রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক দেবাংশু কুমার সরকার ও তার বাবার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক মোস্তফা কামাল এই পরোয়ানা জারি করে তা অবিলম্বে তামিল করার আদেশ দিয়েছেন।

রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার রফিক হাসনাইন জানান, ৩০ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে ডা. হৃদিতা সরকার তার স্বামী রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক দেবাংশু কুমার সরকারসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এ মামলা করেছেন।

তিনি আরো জানান, মামলাটি আমলে নিতে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশনা দেয়। পিবিআই তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে এরই মধ্যে হৃদিতা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি। বুধবার আদালতে বিচারক তদন্তের বিষয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন ও তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দেবাংশু কুমার সরকার ও তার বাবা সুধাংশু কুমার সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের আদেশ দেয়। একই সাথে বাদীর নারাজির আংশিক গ্রহণ করেন।

পিবিআইয়ের রংপুরের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন জানান, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই মামলার বাদি একজন চিকিৎসক এবং বিবাদী এই কোর্টেরই একজন বিচারক। আমরা স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ও বস্তুগত প্রমাণের আলোকে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়েছি। ভিকটিম এতে নারাজি করেছেন। আদালত আমাকে ও তদন্ত কর্মকর্তা যতীন শর্মাকে ডেকেছিল। লার্নেড কোট সিদ্ধান্ত নিতে যে এটি নারাজিতে যাবেন নাকি আমলে নিবেন। আদালতে হাজির হয়ে বিচারক যা জিজ্ঞাসা করেছেন, আমরা তার জবাব দিয়েছি। এখন বিচারক যা সিদ্ধান্ত নিবেন সেভাবে মামলাটি চলবে।