প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যাপীঠ সরকারি ব্রজমোহন-বিএম কলেজের ক্যান্টিনটি দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে জরাজীর্ণ ক্যান্টিনটি সংস্কার না করে চালু করা সম্ভব নয়। তবে ভোগান্তি লাঘবে ক্যান্টিনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


তারা বলছেন, বিএম কলেজের বিশাল ক্যাম্পাসের মাঝামাঝি স্থানে ক্যান্টিনটির অবস্থান। তবে এটি বন্ধ থাকায় এখন তাদের ক্লাসের ফাঁকে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে নাশতা করে আসতে হয়। আর ক্যাম্পাসের বাইরে ভালো মানের খাবারের দোকান নেই। এ জন্য অনেক সময় বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে খাবার।
সরেজমিন জানা গেছে, শতবর্ষের পুরনো সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ক্যান্টিনটি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সব সময় মুখর থাকত। পরিচালনাকারীরা পাল্টে যাওয়ায় কয়েক বছর আগে ‘ক্যাফে জীবনানন্দ’ নামে ক্যান্টিনটি যাত্রা শুরু করে, এরপর মাত্র দুই বছরের মতো সচল ছিল ক্যান্টিনটি। মহামারীর করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ক্যান্টিনটি বন্ধ রয়েছে। আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মরিচা ধরেছে ক্যান্টিনের মূল দরজার তালাতেও। ধুলোর আস্তরে ঢাকা পড়েছে কলেজ ক্যান্টিনের ভেতরে থাকা আসবাবপত্রেও। এক কথায় চটকদার সাইনবোর্ড ছাড়া ক্যান্টিনের কিছুতেই নেই নতুনত্বের ছোঁয়া।


সজীব নামে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলেন, ব্রজমোহন কলেজের ২২টি বিভাগে অনার্স, মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছাড়াও এইচএসসি, ডিগ্রি মিলিয়ে ৩০ হাজারের ওপরে শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বর্তমানে বন্ধ থাকা ক্যান্টিনের সামনের বারান্দা ও মাঠে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আড্ডা দিচ্ছেন। তবে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ আর হচ্ছে না। জানালা দিয়ে ক্যান্টিনের ভেতরের অবক্ষয় দেখা ছাড়া এখন আর উপায় নেই।
এ দিকে ক্যান্টিনটি ইতোমধ্যে পরিচালনা করে খুব একটা বাকি-বাট্টা বাজত না জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন ম্যানেজার বলেন, বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বিএম কলেজে। তাই এখানে বাকি খাওয়ার প্রচলন তেমন একটা ছিল না, তবে কিছু নেতা তাদের নামে খাওয়া-দাওয়া করালেও টাকা দিয়ে দিতেন ঠিকভাবে। যারা দিতেন না তাদের সংখ্যা একেবারেই কম, ফলে ক্যান্টিন চালিয়ে লোকসানও হতো না ইজারাদারের।


বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সরকারি ব্রজমোহন কলেজ শাখার সভাপতি আরাফাত হোসেন শাওন বলেন, ক্যান্টিনটি ভালোভাবেই চলছিল। করোনার আগে ছাত্রলীগের নেতারা এটিকে পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তবে যতদূর শুনেছি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ক্যান্টিনটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কলেজ প্রশাসন ক্যান্টিন চালুর জন্য উদ্যোগী না হলে আসবাবপত্রগুলো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবনটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে।
কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন সরোয়ার বলেন, ক্যান্টিনটি কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি, তবে এটি বন্ধ থাকায় এখন সংস্কারের প্রয়োজন। সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কলেজ ক্যান্টিন চালু করার কথাও বলেন তিনি।