নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: হারুনুর রশীদ খান। গতকাল শনিবার সকালে ফজর নামাজের পর সন্ত্রাসীরা উপজেলা চেয়ারম্যানের শিবপুর সদরের বাসায় ডুকে তাকে দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে প্রথমে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ দিকে হারুনুর রশীদ খানের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার শত শত কর্মী-সমর্থক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রথমে শিবপুরের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ইটাখোলায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এই বিক্ষোভ বেলা প্রায় ২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় ট্রায়ার ও কাঠ পুড়িয়ে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবাদ জানায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে শিবপুরের ইউএনও জিনিয়া জিন্নাত, এসিল্যান্ড, ওসি ফিরোজ তালুকদার বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা চালালেও তারা রাস্তা অবরোধে অনড় থাকেন। এমতাবস্থায় নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম উপস্থিত হয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা বেলা ২টায় বিক্ষোভ স্থগিত করেন।
বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রমীদ খান ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঞা মোহন জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে নিজ বাসায় গুলি করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিবপুরের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করার দাবি জানান। শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহসীন নাজির জানান, দলীয় কোন্দলে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রীরা তাকে নিজ বাসায় গুলি করেছে। আমরা হত্যার রাজনীতি চাই না। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঞা রাখিল বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ। তাকে হত্যার জন্য গুলি করা হয়েছে। আমি সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করছি। জেলা যুবলীগের সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। গুলিবিদ্ধ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাতিজা জেলা যুবলীগের সহসভাপতি ইফতেখার উদ্দিন খান নিপুণ বলেন, হারুন খানকে হত্যার জন্য সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।





