ময়মনসিংহের ভালুকা ও উথুরা রেঞ্জের আওতায় হবিরবাড়ি, মেহেরাবাড়ি, কাদিগড়, পাড়াগাঁও, গৌরিপুর, মনোহরপুর, মল্লিকবাড়ি, ডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের কয়েক শ’ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে ফ্যাক্টরির বহুতল ভবন, বসতবাড়ি ও মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কতিপয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিদের সাথে যোগসাজশ করে প্রকাশ্যেই এসব নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি মৌজায় বনের গেজেটভুক্ত ৯ নং দাগে সিডস্টোর বাজার এলাকায় জয়নাল ও অজিত কর্মকার নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন। একই দাগে আউলাতলী রোডে আফাজ উদ্দিন তালুকদার ও মাহবুব মাস্টার নির্মাণ করছেন ৫ তলা বাড়ি এবং সাথেই আব্দুল লতিফ নির্মাণ করছেন তিনতলা বাড়ি। পাশের ১৯ নং দাগে টিনের বেড়া দিয়ে ভিতরে পাকা দালান নির্মাণের জন্য জমি জবরদখল করছে এটায়ার নামে এক শিল্প প্রতিষ্ঠান। এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বন ভূমি দখলের অভিযোগ আছে। তা ছাড়া একই দাগে হামিদ গ্রুপ প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখল করে সীমানা প্রাচীর দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। পাশেই একই দাগে হারুন নামে এক ব্যক্তি নির্মাণ করছেন আরেকটি বহুতল ভবন। এ ছাড়া ঝালপাজা রোডে ১৮৫ নং দাগে রিপন খান নির্মাণ করছেন ৬ তলা বাড়ি। ৭৭৮ নং দাগে মোবারক হোসেন, জালাল উদ্দিন, ১১০ নং দাগে চানুমিয়া শহিদ, হারুন, জসিমসহ একাধিক ব্যক্তি নির্মাণ করছেন বসতবাড়ি ও মার্কেট। মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের ধামশুর মৌজায় ১২১৭ নং দাগে আসাদুল নামে এক ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এ দিকে কাদিগড় বিটের আওতায় পাড়াগাঁও মৌজার ২৯০ ও ২২৭ নং দাগে লাউতি খালের পাড়ে এ্যাক্সিলেন্ট সিরামিক্স কোম্পানি প্রায় সাড়ে ৯ একর জমি দখলে নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করলে ওই সিরামিক্স কোম্পানির মালিক, জেনারেল ম্যানেজার ও অ্যাডমিনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দিয়েছেন কাদিগড় বিট কর্মকর্তা।
তা ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে ভেকু ও ড্রামট্রাক দিয়ে উঁচু টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে এক প্রভাবশালী চক্র। এভাবে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, বন বিভাগের সাথে কথা বলে অথবা তাদের যোগসাজশ না থাকলে এসব ভবন নির্মাণ অথবা মাটি বিক্রি করা সম্ভব নয়। বন বিভাগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ না করে কারো পক্ষে বনের জমির ওপর একটি ইটও গাঁথা সম্ভব নয়। হামিদ গ্রুপের অ্যাডমিন ম্যানেজার শাহজাহান নোমান আকন্দ জানান, বন বিভাগের সাথে ঝামেলা রয়েছে। তারা মামলায় ডিক্রি পেয়েই কাজ করছেন।
একটি সূত্রে জানা যায়, বনভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় দখলকারীদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ, ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন ও বিট অফিসার আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের সিনিয়র আদালতে এবং ভালুকা মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা তদন্ত করছেন শিল্প পুলিশ জোন ৫ এর ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান এবং অপরটি তদন্ত করছে থানা পুলিশ।
উপজেলার কাদিগড় বিট অফিসার ফিরোজ আল আমিন জানান, পাড়াগাঁও মৌজার ২৯০ ও ২২৭ নং দাগে লাউতি খালের পাড়ে অ্যাক্সিলেন্ট সিরামিক্স কোম্পানি প্রায় সাড়ে ৯ একর জমি দখলে নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করলে কোম্পানির মালিক, জেনারেল ম্যানেজার ও অ্যাডমিনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দিয়েছে বন বিভাগ।
ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খান জানান, তিনি হবিরবাড়ি স্টেশনে নতুন যোগদান করেছেন। এসব বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে তিনি কথা বলেন। কাদিগড় বিট অফিসার ফিরোজ আল মামুন জানান, তার বিটের আওতায় উল্লেখিত বিষয়ের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিবেন।
ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন জানান, অনেক সময় জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গেলে বন বিভাগের সাথে জবর দখলকারীদের সংঘর্ষ বাধে। হবিরবাড়ি মৌজার ১৯ নং দাগে বন বিভাগের দাবিকৃত প্রায় ১৩ একর জমি হামিদ গ্রুপ দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালালে তাদেরকে বাধা দেয়া হয়। এ ব্যাপারে এখন আদালতে মামলা চলমান আছে। হবিরবাড়ি মৌজার ৭৭৮ ও ১১০ নং দাগে এলাকাবাসীর সাথে ঝামেলা হওয়ায় একটি মামলা হয়েছে। বন বিভাগ ও এলাকাবাসীর মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় সময়ই বিরোধ চলছে বলে তিনি জানান।
ভালুকায় বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে একের পর এক ভবন
ময়মনসিংহের ভালুকা ও উথুরা রেঞ্জের আওতায় হবিরবাড়ি, মেহেরাবাড়ি, কাদিগড়, পাড়াগাঁও, গৌরিপুর, মনোহরপুর, মল্লিকবাড়ি, ডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের কয়েক শ’ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে...





